ডলার গত মঙ্গলবার মুদ্রা বাস্কেটের তুলনায় চার বছরের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইউরো ও পাউন্ডের বিপরীতে এই পতন বহু বছরের নিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকরা এটিকে ২০২৫ সালের ধারাবাহিক অস্থিরতার সূচক হিসেবে দেখছেন।
পতনের গতি সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেলেও বিশেষজ্ঞরা এটিকে স্বল্পমেয়াদী স্বস্তি হিসেবে দেখছেন না। ING-এ গ্লোবাল হেড অফ ফিনান্সিয়াল মার্কেট রিসার্চ ক্রিস টার্নার উল্লেখ করেছেন, ডলারের দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে দুর্বল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সঠিক সময়সীমা এখনও অনিশ্চিত।
ডলারের মান হ্রাসের ফলে আমেরিকান ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা বিদেশি পর্যটকদের জন্যও স্পষ্ট। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে তবে আমেরিকান বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে, কারণ আমদানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে।
ডলারের বিশ্বব্যাপী রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে অবস্থানও প্রশ্নের মুখে। দশকের পর দশক ধরে ডলারকে নিরাপদ ঋণগ্রহণের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বর্তমান পতন এই সুবিধাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
গত দশকে ডলার ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় ছিল, বিশেষ করে ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পোস্ট‑প্যানডেমিক বৃদ্ধির গতি এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করেছিল।
তবে গত বছর ডলার সূচক প্রায় দশ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০১৭ সালের পরের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এই পতনের বড় অংশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘Liberation Day’ ট্যারিফ ঘোষণার পরপরই ঘটেছিল, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এই মাসে ইউরোপের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত উত্তেজনা ডলারের অতিরিক্ত পতনে ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই বিষয়টি মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই সপ্তাহে ডলার আরও হ্রাস পেয়েছে, কারণ বাজারে এমন অনুমান ছড়িয়ে পড়েছে যে মার্কিন সরকার জাপানের সঙ্গে সমন্বয় করে ডলার বিক্রি করতে পারে, যাতে ইয়েনের মান স্থিতিশীল করা যায়। এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা সম্মত যে ডলারের অবনতি অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও সঠিক সময়সীমা এখনো অজানা। বাজারের দৃষ্টিতে মূল চালিকাশক্তি হল ট্যারিফ নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ।
ডলার দুর্বল হলে মার্কিন সরকার ও কর্পোরেট ঋণের সুদের হার বাড়তে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা উচ্চ রিটার্নের জন্য প্রিমিয়াম চায়।
যদি মার্কিন সরকার ডলার বিক্রি করে ইয়েনকে সমর্থন করে, তবে ডলারের মান আরও নিচে নামতে পারে, যা গ্লোবাল বাণিজ্য ও পণ্য মূল্যে প্রভাব ফেলবে।
বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের জন্য ডলারের চলমান অস্থিরতা সতর্কতা সংকেত হিসেবে কাজ করবে, এবং মুদ্রা বাজারের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।



