অ্যাপল বৃহস্পতিবার ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে, মোট আয় $143.8 বিলিয়ন রেকর্ড করে এবং পূর্ববছরের তুলনায় 16% বৃদ্ধি পায়। এই ফলাফল বাজারের প্রত্যাশা অতিক্রম করেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। একই সময়ে, কোম্পানির সিইও টিম কুকের সঙ্গে আয় কলের সময় AI সম্পর্কিত আর্থিক প্রশ্ন উঠে আসে।
আয় কলের সময় বিশ্লেষকরা কুককে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন, যার মধ্যে মর্গান স্ট্যানলি বিশ্লেষক এরিক উডরিংয়ের প্রশ্ন বিশেষভাবে নজরে আসে। উডরিং উল্লেখ করেন যে AI প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতিমধ্যে AI ফিচার তাদের পণ্যে সংযোজন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে AI থেকে সরাসরি আয় কতটা হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উডরিংয়ের প্রশ্নের মূল বিষয় ছিল, “আপনারা AI থেকে কীভাবে আয় অর্জন করবেন?” তিনি উল্লেখ করেন যে AI সংযোজনের ফলে খরচ বাড়লেও, এর মাধ্যমে আয় বাড়বে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত। এই প্রশ্নটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রতিফলন, কারণ AI-তে বড় বিনিয়োগের পরেও স্পষ্ট মুনাফা মডেল না থাকলে শেয়ার মূল্যের উপর চাপ পড়তে পারে।
টিম কুকের উত্তর সংক্ষিপ্ত ছিল; তিনি বলেন যে অ্যাপল ব্যবহারকারীর প্রিয় পণ্যগুলোতে বুদ্ধিমত্তা সংযোজন করছে এবং অপারেটিং সিস্টেমে ব্যক্তিগত ও গোপনীয়ভাবে AI একীভূত করছে। তবে তিনি সরাসরি কোনো আয় মডেল বা মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। এই ধরনের উত্তর বাজারে আরও প্রশ্নের জন্ম দেয় যে AI-কে কীভাবে ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগানো হবে।
অ্যাপলের এই অবস্থানকে বৃহত্তর প্রযুক্তি শিল্পের প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করা যায়। অনেক বড় কোম্পানি AI-কে দ্রুত গ্রহণ করছে, তবে স্পষ্ট আয় সূত্র এখনও গড়ে তোলার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওপেনএআই এখনো 2030 সাল পর্যন্ত মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে এবং বিশ্লেষকরা অনুমান করেন যে কোম্পানিটিকে অতিরিক্ত $207 বিলিয়ন তহবিলের প্রয়োজন হবে। এই অনুমানকে কিছু বিশ্লেষক সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।
ওপেনএআইয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা লক্ষ্য এবং বিশাল তহবিলের প্রয়োজনীয়তা AI-তে বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলে ধরে। যদি AI-তে ব্যয় বাড়লেও তাৎক্ষণিক আয় না আসে, তবে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অ্যাপলও একই ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন, বিশেষত যখন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা AI-কে পণ্য ও পরিষেবায় দ্রুত সংযোজন করে বাজার শেয়ার বাড়াচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে AI-তে স্পষ্ট আয় মডেল না থাকলে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ আয় পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা এখনো দেখতে চান যে AI ফিচারগুলো কীভাবে প্রিমিয়াম পরিষেবা, সাবস্ক্রিপশন বা এন্টারপ্রাইজ লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে আয় বাড়াবে। এই দিক থেকে কোম্পানির কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো শেয়ার মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
অ্যাপলের বর্তমান আয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও AI-তে স্পষ্ট আয় পরিকল্পনা না থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি AI-কে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে তা সরাসরি আয় বাড়াবে না। তাই কোম্পানিকে ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক পণ্য বা পরিষেবার জন্য মূল্য নির্ধারণের মডেল গড়ে তুলতে হবে।
সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে অ্যাপল AI-কে প্রিমিয়াম অ্যাপ স্টোরে নতুন ফিচার হিসেবে চালু করতে পারে, অথবা এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য কাস্টমাইজড AI সমাধান প্রদান করতে পারে। এছাড়া, ক্লাউড পরিষেবার মাধ্যমে AI ক্ষমতা বিক্রি করা আরেকটি সম্ভাব্য আয় উৎস হতে পারে। এসব কৌশল যদি কার্যকর হয়, তবে AI-তে ব্যয় করা মূলধন দ্রুতই রিটার্নে রূপান্তরিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যাপল AI-কে তার ইকোসিস্টেমে একীভূত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে স্পষ্ট আয় মডেল এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিনিয়োগকারীরা এই অনিশ্চয়তা নিয়ে সতর্ক, এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধিতে AI-র ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে দৃষ্টিপাত করবে। বাজারের প্রত্যাশা পূরণে অ্যাপলের কৌশলগত পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে।



