অ্যাপল আজ তার সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে iPhone বিক্রির রেকর্ড ত্রৈমাসিক রেকর্ড ভাঙা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকটি কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ iPhone আয় দেখিয়েছে। ফলাফলগুলো শেয়ারহোল্ডার ও বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই ত্রৈমাসিকে iPhone থেকে প্রাপ্ত আয় প্রায় ৮৫.২৭ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্বের সর্বোচ্চকে অতিক্রম করেছে। বিক্রিত ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, নতুন মডেলের দাম এক হাজার ডলারের উপরে পৌঁছানোর পরও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিইও টিম কুক কনফারেন্স কলের সময় উল্লেখ করেন, iPhone এর চাহিদা “অসাধারণভাবে বিশাল” এবং বর্তমান লাইনআপকে “এখন পর্যন্তের সবচেয়ে শক্তিশালী” এবং “সবচেয়ে জনপ্রিয়” বলে বর্ণনা করেন। তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে উচ্চমূল্যের সত্ত্বেও গ্রাহকরা নতুন মডেল গ্রহণে উচ্ছ্বসিত।
iPhone আয়ের পাশাপাশি, অ্যাপলের সেবা বিভাগও রেকর্ড ত্রৈমাসিক দেখিয়েছে। সেবা থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই বৃদ্ধি স্ট্রিমিং, ক্লাউড ও অ্যাপ স্টোরের আয় বৃদ্ধির সমন্বয়ে ঘটেছে।
মোট আয়ও নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৪৩.৭৬ বিলিয়ন ডলার। এটি অ্যাপলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোট আয়, যা কোম্পানির বহুমুখী ব্যবসা মডেলকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
উচ্চ iPhone আয় এবং সেবা আয়ের সমন্বয় অ্যাপলের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা শেয়ার মূল্যের ইতিবাচক গতিপথকে সমর্থন করে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ফলাফলগুলো কোম্পানির ভবিষ্যৎ ত্রৈমাসিকের জন্যও আশাব্যঞ্জক সূচক, বিশেষ করে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
তবে, iPhone এর গড় বিক্রয়মূল্য এক হাজার ডলারের উপরে থাকা বাজারের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। মূল্য সংবেদনশীল গ্রাহকগোষ্ঠীর ক্রয় ক্ষমতা সীমিত হলে বিক্রয় পরিমাণে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে উদীয়মান বাজারে।
অ্যাপল ইতিমধ্যে সেবা বিভাগে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে, যা উচ্চ মূল্যের হার্ডওয়্যারের বিক্রয় কমে গেলে আয় স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। ক্লাউড, স্বাস্থ্য ও আর্থিক সেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে আয় বৈচিত্র্য বাড়াবে এবং নতুন রাজস্ব প্রবাহ তৈরি করবে।
বাজারে এই ফলাফলগুলো শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে শেয়ার মূল্যে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক চাপ দেখা যায়। একই সঙ্গে, বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্যের পণ্য লাইনআপের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যৎ ডিভিডেন্ড নীতি ও শেয়ার পুনঃক্রয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাপলের এই রেকর্ড ত্রৈমাসিকের প্রভাব প্রযুক্তি সেক্টরের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ওপরও পড়বে। প্রতিযোগীরা উচ্চ মূল্যের স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, অথবা সেবা ভিত্তিক মডেলে জোর দিতে পারে, যাতে আয় কাঠামোকে ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়।
সংক্ষেপে, অ্যাপল ২০২৫ সালের শেষের ত্রৈমাসিকে iPhone বিক্রিতে ঐতিহাসিক শীর্ষে পৌঁছেছে, সেবা আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মোট আয় নতুন শিখরে পৌঁছেছে। এই ফলাফলগুলো কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের দৃঢ়তা নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করে।
ভবিষ্যতে, উচ্চ মূল্যের পণ্য ও সেবা মিশ্রণ কিভাবে বাজারের চাহিদা পূরণ করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মূল্য সংবেদনশীলতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গতিপথই হবে মূল নির্ধারক, যা অ্যাপলের কৌশলগত দিকনির্দেশনা গঠন করবে।



