ইউ সিরিজের জনপ্রিয় অভিনেতা পেন ব্যাডলি সম্প্রতি তার নতুন ছবির জন্য শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। ‘ইউ ডেজার্ভ ইচ আদার’ শিরোনামের চলচ্চিত্রে তিনি ডেন্টিস্ট নিকলাস রোজ চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং এই ভূমিকায় শারীরিক রূপান্তর তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এই বিষয়টি তার পডকাস্ট ‘পডক্রাশড’ এ সহ-অভিনেত্রী মেগান ফাহির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী নিকলাস রোজের দেহের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ রয়েছে, ফলে ব্যাডলি শুটিংয়ের ঠিক আগে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরই ওজন কমাতে মনোযোগ দেন। তিনি জানান, ছবির শুটিং শুরুর আগে মাত্র কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস করতে হয়েছিল। এই দ্রুত পরিবর্তন তাকে চরিত্রের মানসিক অবস্থা বুঝতে সহায়তা করেছে।
অভিনেতা উল্লেখ করেন, চরিত্রের বর্ণনা অনুযায়ী তাকে ছয় প্যাকের বদলে আট প্যাকের শার্প শারীরিক গঠন রাখতে বলা হয়েছিল, যা তিনি মার্ভেল সিনেমার সুপারহিরোর মতো শারীরিক গঠন হিসেবে বর্ণনা করেন। যদিও তিনি নিজের দেহকে ইতিমধ্যে ভালো বলে মনে করতেন, তবু এই অতিরিক্ত চাহিদা তাকে শারীরিকভাবে কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করে।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী একটি বাগদত্তা দম্পতি নাওমি (মেগান ফাহি) ও নিকলাসের (পেন ব্যাডলি) চারপাশে ঘোরে। দুজনেই বিবাহবিচ্ছেদের পরিকল্পনা করে একে অপরকে বাধা দিতে চেষ্টা করে, কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় আবার প্রেমে পড়ে। এই রোমান্টিক কমেডি শৈলীর গল্পে সম্পর্কের জটিলতা ও হাস্যরসের মিশ্রণ দেখা যাবে।
ব্যাডলি জানান, তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো চরিত্রের জন্য তিনি শারীরিকভাবে পেশীবহুল রূপে রূপান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি এই চ্যালেঞ্জকে ‘একটি কমেডি ছবির জন্য এ রকম শারীরিক পরিবর্তন করা অপ্রত্যাশিত’ বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেকে এই নতুন অভিজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত করতে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন।
চলচ্চিত্রে নাতালি মোরালেস, জাস্টিন লং, কাইল ম্যাকলাচলন, আনা গাস্টেয়ার, হোপ ডেভিস, ডেলেনি রো এবং লিসা গিলরয় সহ বহু পরিচিত শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। এই বহুমুখী কাস্টের সমন্বয়ে ছবির গল্পকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের অভিনয় শৈলীকে আলাদা রঙে রাঙিয়ে তুলেছে।
প্রাথমিকভাবে টিমোথি বাসফিল্ডকে নাওমির পিতার ভূমিকায় কাস্ট করা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠার পর ছবির সম্পাদনা প্রক্রিয়ায় তার অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে শেষ সংস্করণে এই চরিত্রটি উপস্থিত নেই।
‘ইউ ডেজার্ভ ইচ আদার’ একটি হালকা-ফুলকা রোমান্টিক কমেডি হিসেবে প্রকাশিত হবে এবং দর্শকদেরকে প্রেম, বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের মিশ্র অনুভূতি প্রদান করবে। পেন ব্যাডলির শারীরিক পরিবর্তন এবং মেগান ফাহির সঙ্গে তার পারস্পরিক ক্রিয়া ছবির আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটি সারা হগলের বেস্টসেলিং উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে মূল গল্পের রসিকতা ও সম্পর্কের জটিলতা বজায় রাখা হয়েছে। স্ক্রিনরাইটাররা বইয়ের মূল থিমকে আধুনিক সিনেমাটিক শৈলীতে রূপান্তরিত করে দর্শকের কাছে উপস্থাপন করেছেন।
পেন ব্যাডলি সম্প্রতি তার নিজস্ব পডকাস্ট ‘পডক্রাশড’ চালু করেছেন, যেখানে তিনি শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এই এপিসোডে তিনি নিজের শারীরিক পরিবর্তন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং চরিত্রের মানসিক দিক নিয়ে বিশদভাবে কথা বলেছেন, যা ভক্তদের মধ্যে বড় সাড়া ফেলেছে।



