ডাচ ডি.জে ও প্রযোজক নিক ভ্যান ডি ওয়াল, যাকে আফ্রোজ্যাক নামে বেশি চেনা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে তার গোপন উপনাম কাপুচন দিয়ে উত্তর আমেরিকার সাতটি ক্লাবের ট্যুর শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্যুরের মূল উদ্দেশ্য হল নাচের মঞ্চের জন্য শুদ্ধ সঙ্গীত উপস্থাপন করা, বাণিজ্যিক সাফল্য বা স্ট্রিমের সংখ্যা নয়। এই পরিকল্পনা তার সাম্প্রতিক সৃজনশীল পরিবর্তনের অংশ, যেখানে তিনি বড় মঞ্চের ঝলক ছাড়িয়ে অন্ধকার কৌণিক ঘরে নিজের সুরের স্বাদ দিতে চান।
মহামারীর পরবর্তী বছরগুলোতে আফ্রোজ্যাক তার ব্যবসা চালু রাখতে এবং ভক্তদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে মনোযোগী ছিলেন। তিনি ওয়াল রেকর্ডিংস লেবেল চালু করে নতুন ট্র্যাক প্রকাশ, বিশ্বব্যাপী পারফরম্যান্স এবং লাইভ শোয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এডিট প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। এই সময়ে তিনি মূলত বাণিজ্যিক দিকের সুরে কাজ করছিলেন, যাতে তার ব্র্যান্ডের স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে তার লেবেল ও ক্যারিয়ার এখন স্থিতিশীল, ফলে তিনি আর বাণিজ্যিক আকর্ষণ বা স্ট্রিমের সংখ্যা নিয়ে চিন্তা না করে নাচের মঞ্চের জন্য সঙ্গীত রচনা করতে চান। তিনি বলেন, “আমি এখন শুধুমাত্র নাচের মঞ্চের জন্য সঙ্গীত তৈরি করতে চাই, বাণিজ্যিক দিকের চিন্তা না করে।” এই মনোভাব তাকে তার গোপন উপনাম কাপুচনের মাধ্যমে অজানা পরিবেশে পারফর্ম করতে উদ্বুদ্ধ করে।
বড় ফেস্টিভ্যাল ও প্রধান স্টেজে পারফর্ম করার পাশাপাশি তিনি এখন অজানা ক্লাবের ঘরে নিজের সুর শোনাতে পছন্দ করেন, যেখানে দর্শক তার পরিচয় জানে না। এই পদ্ধতি তাকে সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য—শ্রোতাদের নাচানো—এর দিকে ফিরে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, “যখন মানুষ আমার নাম না জেনে সুরে মুগ্ধ হয়, তখনই সত্যিকারের সাফল্য অনুভব করি।”
গত গ্রীষ্মে ইবিজার Hï ক্লাবে মিস মনিকের সেটের সময় তিনি কাপুচন নামে পারফর্ম করেন। দর্শকরা প্রথমে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ করলেও, সুরের গুণমানের কারণে তারা তৎক্ষণাৎ সাড়া দেয়। তিনি স্মরণ করেন, “তারা আমাকে দেখছিল, ‘এটা কি আফ্রোজ্যাক?’ না, তারা শুধু সুরে মুগ্ধ হয়ে নাচছিল।” এই অভিজ্ঞতা তার জন্য বড় সন্তোষের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তিনি সরাসরি সুরের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন।
কাপুচন হিসেবে পারফর্ম করার সময় যখন সুরগুলো মানুষের মুখে হাসি ও নাচের ছন্দ আনতে শুরু করে, তখনই তার বছরের সাফল্যের মাপকাঠি পূর্ণ হয়। তিনি বলেন, “যখন আমি দেখি মানুষ মুখে ‘হ্যাঁ!’ বলে, তখনই আমার কাজের সার্থকতা অনুভব করি।” এই অনুভূতি তাকে আরও বেশি করে অন্ধকার কৌণিক ঘরে সঙ্গীত শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করে।
মার্চে শুরু হওয়া কাপুচন প্রেজেন্টস আফ্রোজ্যাক ট্যুরে মোট সাতটি শহরে পারফর্ম করা হবে, যার মধ্যে লস এঞ্জেলেসের সাউন্ড, ব্রুকলিনের রিফিউজ এবং মন্ট্রিয়ালের স্টেরিওবার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি ক্লাবের নির্বাচন করা হয়েছে যেখানে তিনি তার গোপন উপনাম দিয়ে অপ্রকাশিত পরিবেশে সঙ্গীত উপস্থাপন করতে পারবেন। ট্যুরের সময়সূচি এবং টিকিটের তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা ডি.জে ও ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
আফ্রোজ্যাকের এই পদক্ষেপ ডি.জে ও প্রযোজকদের মধ্যে একটি বৃহত্তর প্রবণতা নির্দেশ করে, যেখানে শৈল্পিক স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা বাণিজ্যিক মেট্রিকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি উল্লেখ করেন, “আজকের ড্যান্স মিউজিকের জগতে জেনার বা শিল্পীর ধরন নিয়ে কোনো কঠোর সীমা নেই; সবই মিশে গেছে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে এবং তার সমকক্ষদেরকে নতুন সাউন্ড এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ দেয়, যা নাচের মঞ্চকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, আফ্রোজ্যাকের কাপুচন ট্যুর তার সঙ্গীতের মূল উদ্দেশ্য—নাচের মঞ্চে মানুষের হৃদয় জয় করা—এর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি এখন বাণিজ্যিক চাপে না গিয়ে, অজানা ক্লাবের ঘরে নিজের সুর শোনাতে এবং শুদ্ধ নাচের আনন্দ ছড়াতে মনোনিবেশ করেছেন। এই পরিবর্তন ডি.জে শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে নতুন আলো ফেলবে, যেখানে সৃজনশীলতা ও শুদ্ধ সঙ্গীতের মূল্য সর্বোচ্চ হবে।



