ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট রেজা মীর মোহাম্মাদী ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ইরান সম্পর্কে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের ভুল ধারণার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে বহিরাগত প্রতিবেদনগুলো প্রায়ই অর্ধেক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গঠন করা হয়।
মোহাম্মাদী, যিনি বহু বছর ধরে ইরান‑বিষয়ক আন্তর্জাতিক কভারেজে যুক্ত, বলেন, পশ্চিমা মিডিয়া প্রধানত প্রতিবাদ, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওপর জোর দেয়, যদিও দেশের বাস্তব চিত্রে আর্থিক সংকট, সামাজিক পরিবর্তন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের শেষ থেকে চলমান প্রতিবাদে আনুমানিক ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে ছুরিকাঘাত, অগ্নিসংযোগ এবং এমনকি শিরশ্ছেদের মতো নির্মম ঘটনা অন্তর্ভুক্ত, যা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফল।
মোহাম্মাদী জোর দিয়ে বলেন, এই মৃত্যুর সংখ্যা সত্যই অস্বীকার করা যায় না, তবে সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনা প্রায়ই শিরোনামকে নাটকীয় করে তোলার জন্য ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করে। ফলে পাঠকরা ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা পায়।
বহিরাগত মিডিয়া প্রায়ই ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গের প্রধান উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে। মোহাম্মাদী বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে উপেক্ষা করে।
তিনি যুক্তি দেন, ইরান বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার জন্য বেশ কিছু কূটনৈতিক উদ্যোগ চালু করেছে। এসব উদ্যোগের ওপরও পশ্চিমা প্রতিবেদনগুলো যথাযথ দৃষ্টিপাত করে না।
মোহাম্মাদী আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সরকার নিরাপত্তা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই দিকগুলোকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সহিংসতা তুলে ধরা আন্তর্জাতিক পাঠকদের মধ্যে একধরনের পক্ষপাত গড়ে তুলতে পারে।
পশ্চিমা মিডিয়ার প্রতিনিধিরা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নাগরিক স্বাধীনতার হ্রাসের তথ্য প্রকাশে অগ্রগণ্য। তারা যুক্তি দেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে স্বচ্ছতা না থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
মোহাম্মাদী এই অবস্থানকে স্বীকার করে বলেন, মানবাধিকার রক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তথ্যের সম্পূর্ণতা ও প্রেক্ষাপট বজায় রাখা সমানভাবে জরুরি। তিনি আহ্বান জানান, সংবাদমাধ্যমগুলোকে ইরানের বহুমুখী বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে, যাতে পাঠকরা সঠিক বিশ্লেষণ করতে পারে।
এই বিবৃতি প্রকাশের সময় ইরান ও বাংলাদেশ দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা‑করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মোহাম্মাদী উল্লেখ করেন, মিডিয়ার সঠিক প্রতিবেদন উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি পশ্চিমা মিডিয়া ইরানের জটিলতা যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে, তবে আন্তর্জাতিক নীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং বিনিয়োগের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের তথ্যের বিকৃতি ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মোহাম্মাদীর মন্তব্যের পর ইরান‑বিষয়ক আলোচনায় একটি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হল সত্যকে সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া গড়ে ওঠে।
অবশেষে, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে ইরান সম্পর্কে প্রতিবেদনগুলোতে ন্যায়সঙ্গততা ও ভারসাম্য বজায় থাকবে, যা কেবলমাত্র তথ্যের সঠিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করবে।



