বুধবার ব্রুস স্প্রিংস্টিন তার নতুন গানের মাধ্যমে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এর কার্যক্রমকে ‘রাষ্ট্রভীতি’ বলে সমালোচনা করেন। গানের শিরোনাম “স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস” এবং এতে মিনিয়াপোলিসে আইসের দ্বারা অ্যালেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুডের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ আছে।
গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এবিগেল জ্যাকসন মিডিয়াকে জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার রাজ্য ও স্থানীয় ডেমোক্র্যাটদেরকে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদেরকে তাদের সম্প্রদায় থেকে সরিয়ে দিতে উৎসাহিত করছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, গানের মতো ‘অপ্রাসঙ্গিক মতামত’ ও ‘ভুল তথ্য’ সম্বলিত গানগুলো সমস্যার সমাধান নয়।
জ্যাকসন উল্লেখ করেন যে, মিডিয়ার দায়িত্ব হল ডেমোক্র্যাটদের কীভাবে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা থেকে বিরত রয়েছে তা তুলে ধরা, বরং তাদেরকে ‘অপরাধী অবৈধদের জন্য আশ্রয়’ প্রদানকারী হিসেবে চিত্রিত করা নয়। এই মন্তব্যে তিনি গানের বিষয়বস্তুকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ এবং ‘অসত্য’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
ব্রুস স্প্রিংস্টিনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক অতীতেও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। গত বছর দুজনের মধ্যে বেশ কয়েকটি তীব্র মন্তব্যের আদানপ্রদান হয়, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্প্রিংস্টিনকে ‘পাথরের মতো বোকা’ এবং ‘শুকিয়ে যাওয়া কুমড়া’ বলে সমালোচনা করেন।
সেই সময়ে স্প্রিংস্টিন কোনো ক্ষমা চাওয়া না করে তার মতামত বজায় রাখেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি পূর্বে টাইম ম্যাগাজিনে উল্লেখ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার কোনো উদ্বেগ নেই।
নতুন গানের প্রকাশের পরেও স্প্রিংস্টিন তার সুরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি কোনো ধীরগতি দেখাতে না দিয়ে, আইসের নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে চান।
ট্রাম্প প্রশাসন গানের প্রতি যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে গানের বিষয়বস্তুকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে চিহ্নিত করা, শিল্পের স্বাধীনতা ও প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা এখনও গানের বিষয়বস্তু বা প্রশাসনের মন্তব্যের উপর কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী তারা ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
এই ঘটনা মিডিয়ার দৃষ্টিতে রাজনৈতিক গানের প্রভাব ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। গানের মাধ্যমে জনমত গঠন এবং সরকারী নীতি সমালোচনা করার প্রচেষ্টা এখনো চলমান, এবং এই দ্বন্দ্বের পরিণতি কী হবে তা সময়ই বলবে।
বিনোদন ও রাজনীতির সংযোগস্থলে এই ধরনের সংঘাত প্রায়শই জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করে। স্প্রিংস্টিনের গানের মাধ্যমে আইসের নীতি সমালোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, শিল্পী ও সরকার উভয়েরই জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এবং এই ধরনের পারস্পরিক বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রকাশ পেতে পারে।



