ভেনেজুয়েলা জাতীয় পরিষদ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হাইড্রোকার্বন আইন সংশোধনের প্রস্তাব পাস করে, যা দেশের তেল‑গ্যাস খাতে বেসরকারি, বিশেষত বিদেশি কোম্পানিগুলোর স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে। আইনটি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সরকার এটিকে বিদেশি মূলধন আকর্ষণের মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী অনুমোদিত চুক্তি সম্পন্ন হলে বেসরকারি সংস্থা তেলক্ষেত্র পরিচালনা করতে পারবে, এবং রাষ্ট্রের তেল সংস্থা PDVSA‑এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো প্রকল্পের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ এবং তেল বিক্রির আয় থেকে সরাসরি অংশ পাবে।
আইনটি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের অনুমোদন প্রয়োজন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান থেকে অপসারণের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বাক্ষরের পর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রবেশদ্বার খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন থেকে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডারকে লক্ষ্য করে আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা, অবহেলিত অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরছেন।
পূর্বে তেল শিল্পের মূল কাঠামো PDVSA‑কে অধিকাংশ প্রকল্পে নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করত, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই নিয়ন্ত্রণের ফলে বহু বহুজাতিক সংস্থা দেশ ছেড়ে যায় এবং চুক্তি পরিবর্তনের পর কিছু সংস্থা এখনও ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেলভান্ডার ধারণ করে, তবে ১৯৭০‑এর দশকে তেল শিল্পের জাতীয়করণের পর এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার ফলে বহু বিদেশি সংস্থা প্রত্যাহার করে। এই প্রক্রিয়ায় চুক্তি পুনর্গঠন এবং ক্ষতিপূরণ সমস্যাও উদ্ভূত হয়েছে।
বছরের পর বছর অবহেলিত অবকাঠামো, তহবিলের ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা তেল শিল্পকে দুর্বল করে তুলেছে। তবুও ভেনেজুয়েলা এখনও বিশাল তেলভান্ডার নিয়ে বিশ্ব বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে।
নতুন সংস্কারটি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে তেলক্ষেত্রের পরিচালনা, উৎপাদন এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক স্বায়ত্তশাসন দেবে, পাশাপাশি PDVSA‑এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোকে প্রকল্পের আর্থিক ফলাফলে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ দেবে। এই পরিবর্তন তেল শিল্পে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন অন্যতম, যা বিশেষ লাইসেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শেভরন পূর্বে আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে থাকে, যা নতুন বিধান তার কার্যক্রমকে সহজতর করবে।
সংসদে অধিকাংশ সদস্য নিকোলাস মাদুরোর সমর্থক, এবং তারা অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের সমর্থনে বিলটি পাস করেছে। রড্রিগেজের নেতৃত্বে সরকার তেল শিল্পের পুনর্গঠনকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
জাতীয় পরিষদের স্পিকার জর্জ রড্রিগেজ, ডেলসি রড্রিগেজের ভাই, আইনটি তেল শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অপরিহার্য বলে জোর দিয়েছেন এবং সহকর্মীদের সমর্থন আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার না হলে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
আইনটি স্বাক্ষরের পর দ্রুত কার্যকরী হবে এবং পরবর্তী ধাপে সরকার সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করেছে। বিশাল তেলভান্ডারকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে পুনরায় প্রবেশের জন্য এই সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।



