মিনিয়াপোলিসে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও সীমানা নিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব ড্যান হোমান জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মিনেসোটা রাজ্যে ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাইছে। এই প্রস্তাবের পেছনে দুইজন মার্কিন নাগরিকের গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং তা নিয়ে সৃষ্ট প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। হোমান উল্লেখ করেন, এজেন্টদের মিশন ত্যাগ করা নয়, বরং তা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা লক্ষ্য।
হোমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি রাজ্য ও শহরের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেন, তবে বর্তমানে শহরের রাস্তায় উপস্থিত ফেডারেল কর্মীর সংখ্যা কমে জেলখানায় বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে। তিনি যুক্তি দেন, এভাবে গুলিবিদ্ধের পর ঘটমান অশান্তি কমে যাবে এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়বে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এজেন্টদের কাজের মৌলিক দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন হবে না; কেবলমাত্র তা আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।
রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের দুই মার্কিন নাগরিকের গুলিবিদ্ধের পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ গড়ে উঠেছে। এই ঘটনায় মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় বিশাল জনসমাবেশ হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তীব্র সমালোচনা জানানো হয়েছে। উভয় পার্টির আইনপ্রণেতারা এই ঘটনার পর ফেডারেল অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।
মিনেসোটা ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেই উভয়েই ফেডারেল এজেন্টদের সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের রাজধানী অঞ্চলে থেকে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন, ফেডারেল উপস্থিতি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শান্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
রাজ্য সরকার ফেডারেল আদালতে আবেদন করে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামের অভিবাসন-সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযান বন্ধের আদেশ চেয়েছে। এই অভিযান প্রায় ৩,০০০ জন অভিবাসন, সীমানা পেট্রোল এবং অন্যান্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা মিনেসোটা রাজ্যের বিভিন্ন শহরে সক্রিয়ভাবে চলমান।
ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেছেন, মিনিয়াপোলিসের ‘স্যানকচুয়ারি সিটি’ নীতি ফেডারেল আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে। এই নীতি অনুযায়ী শহরের কর্মচারীরা অভিবাসন আইন প্রয়োগে অংশ নিতে পারে না, যা ফেডারেল এজেন্টদের কাজকে জটিল করে তুলছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্থানীয় সরকারকে ফেডারেল কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এজেন্টদের সংখ্যা কতটা কমবে এবং কখন কমবে তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। হোমান স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট সংখ্যা ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন মিনিয়াপোলিসে অবস্থা শিথিল করতে পদক্ষেপ নেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে অবস্থা শান্ত করার জন্য ‘ডি-এস্কেলেশন’ নীতি অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করেছেন।
ভবিষ্যতে যদি স্থানীয় ও ফেডারেল স্তরে সমন্বিত চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি কমে শহরের নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন ভারসাম্য গড়ে উঠতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং উভয় দিকের চাপের মধ্যে চলবে, যা মিনেসোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



