মিডিয়াম প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মের সিইও টনি স্টাবলবিনের নির্দেশে কোম্পানির কর্মচারীদেরকে আগামী শুক্রবারের দিনটি জাতীয় ধর্মঘটে অংশ নিতে ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মঘটটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) সংস্থার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কর্মীরা কাজ, স্কুল ও কেনাকাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ধর্মঘটের মূল দাবি হল ICE-কে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা এবং তার রেইড কার্যক্রমের তীব্রতা কমানো। সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ICE রেইডে দুইজন মার্কিন নাগরিকসহ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটার পর এই আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে।
স্টাবলবিন কর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করা স্ল্যাক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কর্মীরা পূর্ণ দিন ছুটি নেবে, আংশিক কাজ করবে বা ধর্মঘটের লক্ষ্য অনুযায়ী কাজের দিক পরিবর্তন করবে – সবই তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে মিডিয়াম কোনো রাজনৈতিক মতামত আরোপের ব্যবসা করে না, তাই অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত।
কোম্পানি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শুক্রবারের জন্য একটি “বিজনেস কন্টিনিউটি” পরিকল্পনা তৈরি করবে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, কর্মীদের ছুটি নেওয়া সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মের সেবা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে কোনো বড় বাধা না আসে।
মিডিয়াম একটি প্রকাশনা মাধ্যম হিসেবে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ের সংবাদ, মতামত ও বিশ্লেষণ শেয়ার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কর্মীদের ধর্মঘটে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া কোম্পানির সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধর্মঘটে গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান বিজ্ঞানী জেফ ডিনের মতো প্রযুক্তি নেতৃবৃন্দের সক্রিয় সমর্থন রয়েছে। ডিন পূর্বে ICE-র নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে বেশ কিছু বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও তাদের সিইও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এই পটভূমিতে মিডিয়ামের সিদ্ধান্তকে কর্মক্ষেত্রের স্বায়ত্তশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সমর্থন করার পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অ্যাপল সিইও টিম কুকেরও সমালোচনা হয়েছে, কারণ তিনি মিনিয়াপলিসে একটি ডকুমেন্টারি স্ক্রিনিং-এ অংশগ্রহণ করেন, যেখানে একই দিনে ফেডারেল সীমান্ত রক্ষী কর্মীরা আইসিই রেইডে এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এই ঘটনা কুকের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মিনিয়াপলিসে ঘটিত হত্যাকাণ্ডে দুইজন মার্কিন নাগরিকসহ একাধিক মানুষ নিহত হয়। এই ঘটনার পর ICE-র বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে প্রতিবাদ বাড়ছে, এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রের কর্মীরা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
মিডিয়ামের এই সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, কোম্পানির ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিকল্পিত ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে প্রযুক্তি শিল্পে কর্মক্ষেত্রের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতি গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মঘটের মতো সামাজিক আন্দোলনগুলো যদি কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ও ব্র্যান্ডের সুনামকে প্রভাবিত না করে, তবে কোম্পানিগুলো এই ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মিডিয়াম কর্মচারীদেরকে জাতীয় ধর্মঘটে অংশগ্রহণের জন্য শুক্রবারের দিনটি ছুটি দিয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার ও কর্মক্ষেত্রের স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেছে, একই সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।



