নটিংহাম ফরেস্ট হাঙ্গেরিয়ান দল ফেরেনচভারোসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগ গ্রুপ ম্যাচে ৪-০ পার্থক্যে জয়লাভ করে প্লে‑অফে স্থান নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি সিটি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফলটি দলের শীতকালীন ক্যাম্পেইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রথমার্ধের শুরুর পরই ইগর জিসাসের গোল দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর দ্বিতীয়ার্ধে জেমস ম্যাকটি পেনাল্টি থেকে স্কোর বাড়িয়ে দলকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শেষ পর্যন্ত রবার্টি কেনের দলে থাকা ফেরেনচভারোসের কোনো উত্তর দিতে না পারায় স্কোর ৪-০ এ স্থির হয়।
ইগর জিসাসের গোলের পরে, রায়ান ইয়েটসের ক্যাপ্টেনশিপে দলটি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালায় এবং মাঝখানে আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করে, যদিও তা শেষ পর্যন্ত গোলের রূপ নেয় না। জেমস ম্যাকটি পেনাল্টি থেকে স্কোর বাড়িয়ে ম্যাচের গতি আরও তীব্র করে, ফলে ফেরেনচভারোসের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
এই জয়টি নটিংহাম ফরেস্টের জন্য ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে; শেষবার ১৯৭৯ সালে ব্রায়ান ক্লফের অধীনে দলটি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তিনটি ধারাবাহিক বাড়ি জয় অর্জন করেছিল এবং প্রথম ইউরোপা কাপ জিতেছিল। আজকের জয়টি সেই সোনালী যুগের স্মরণীয় মুহূর্তকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
কোচ সিয়ান ডাইচের মতে, দলটি ইউরোপা লিগে এমন স্তরে খেলতে চায় যা ভক্তদের পরবর্তী রাউন্ডের জন্য উচ্ছ্বাস জাগাবে। তিনি ম্যাচের প্রোগ্রাম নোটে উল্লেখ করেন যে, লিগ পর্যায় শেষ করতে দলটি শৈলীতে শেষ করতে চায়। ডাইচের এই মন্তব্যের পরই দলটি মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলা শুরু করে।
সোমবারের ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে জয় থেকে পাঁচজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে রায়ান ইয়েটসকে ক্যাপ্টেন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন শক্তি ও তাজা উদ্যম প্রদান করে, যা ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ফেরেনচভারোসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড শেষ হয়ে যায় এবং তাদের শীর্ষ আটের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। হাঙ্গেরিয়ান দলটি পূর্বে কোনো পরাজয় না পেয়ে চলছিল, তবে নটিংহাম ফরেস্টের আক্রমণাত্মক খেলা তাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ভেঙে দেয়।
প্রথমার্ধে নটিংহাম ফরেস্ট দুই গোলের সুবিধা নিয়ে বিরতিতে প্রবেশ করে, যদিও ম্যাচের প্রবাহ দেখায় যে তারা তিন বা চার গোলের পার্থক্যেও পৌঁছাতে পারত। তবে অর্ধেকের পরের সময়ে দলটি রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দেয় এবং অতিরিক্ত গোলের সুযোগ হারায়।
রায়ান ইয়েটসের নেতৃত্বে দলটি মাঝখানে রক্ষণশীলতা বজায় রাখে, যা ডাইচের কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইয়েটসের উপস্থিতি মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দলের আক্রমণকে সমর্থন করে।
ফেরেনচভারোসের প্রথম সতর্কতা ম্যাচের শুরুর দিকে আসে, তবে নটিংহাম ফরেস্ট দ্রুতই তা অতিক্রম করে এবং গেমের গতি নিজের দিকে নিয়ে যায়। কোচ ডাইচের ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনগুলো ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা দলকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালাতে সাহায্য করে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ডাইচের মাথা টেম্পল ট্যাপ করার দৃশ্য দেখা যায়, যা সম্ভবত ক্রিস্টোফার জাকারিয়াসের (Kristoffer Zacharias) পারফরম্যান্সের প্রতি তার উদ্বেগের প্রকাশ। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত শান্তভাবে খেলা শেষ করে এবং ফলাফল নিশ্চিত করে।
এই জয়ের পর নটিংহাম ফরেস্টের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ধারণের জন্য শুক্রবারের ড্র নির্ধারিত হয়েছে, যা দলের ইউরোপা লিগ অভিযানের পরবর্তী ধাপকে নির্ধারণ করবে। দলটি এখন শৈলীতে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।



