যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে আক্রমণ না করার চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা শীতের তীব্র ঠাণ্ডার কারণে করা হয়েছে। এই ঘোষণাটি ২০২৪ সালের শীতকালে, কিয়েভে তাপমাত্রা -২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাসের সময় প্রকাশিত হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডি.সিতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভ্লাদিমির পুতিনকে কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী শহরে এক সপ্তাহের জন্য গুলি চালানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন এবং পুতিন তা মেনে নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি অর্জন করা সহজ ছিল না, তবে পুতিনের সহযোগিতা পাওয়া গর্বের বিষয়।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, ইউক্রেনীয় জনগণ এই সংবাদে প্রথমে সন্দেহপ্রবণ ছিল, তবে শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে ইউক্রেনের জনগণ তীব্র কষ্টে রয়েছে এবং আক্রমণ না হওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ভ্লাদিমির পুতিন) সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের মন্তব্যকে “গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি” হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং শীতকালে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আলোচনার ফলাফল হিসেবে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
শীতের তীব্রতা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। কিয়েভে তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার রাত থেকে দ্রুত হ্রাস পাবে এবং পরবর্তী কয়েক দিনে -২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে, যা নাগরিকদের জন্য জীবনযাত্রার কঠিনতা বাড়িয়ে দেবে।
রাশিয়া সরকার শীতের সময় ইউক্রেনের জ্বালানি সুবিধাগুলিতে আক্রমণ বাড়িয়ে চলেছে, যা ২০২২ সালের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের বিঘ্নে শহরগুলোতে তাপ ও আলো কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
রাশিয়া পক্ষ থেকে এই এক সপ্তাহের আক্রমণ বিরতির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে ইউক্রেনের সরকার এই চুক্তি মেনে চলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের দিক থেকে রাশিয়ার কার্যক্রমের প্রতিফলন হিসেবে তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউএই-তে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেয়। এই আলোচনাকে উভয় পক্ষই গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে শীতের তীব্রতা মোকাবিলায় রাশিয়া আক্রমণ স্থগিতের কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতের তীব্রতা সত্ত্বেও আকাশে ধারাবাহিক আক্রমণ চালু রয়েছে, যা ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগ রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে। যদি রাশিয়া সত্যিই এক সপ্তাহের জন্য আক্রমণ বন্ধ করে, তবে এটি শীতকালে ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার জন্য নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে রাশিয়া যদি এই চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়বে এবং শীতের কঠিন সময়ে ইউক্রেনের অবস্থান আরও দুর্বল হবে।



