ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে এই সপ্তাহে মার্কিন সেনেট একটি বৃহৎ তহবিল প্যাকেজের ওপর ভোটে বাধা দিয়েছে, যা সরকারী বন্ধের ঝুঁকি দূর করার জন্য অপরিহার্য ছিল। ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কার্যক্রমের পুনর্বিবেচনা চেয়ে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তহবিল বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যা গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে ঘটিত গুলিবিদ্ধ ঘটনার পর বাড়তি চাপের মুখে।
বিলটি প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ডিএইচএসের জন্য নির্ধারিত তহবিলও অন্তর্ভুক্ত। যদিও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ইতিমধ্যে এই বিল পাস করেছে, সেনেটের ৬০ ভোটের প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়ায় এটি এখনও অনুমোদিত হয়নি।
ডেমোক্র্যাটরা বিলের মধ্যে কয়েকটি শর্ত যোগ করতে চাচ্ছেন, যার মধ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার করার আগে ওয়ারেন্ট প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা এবং তাদের পরিচয় স্পষ্ট করার জন্য স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তনগুলো আইসিই এবং ডিএইচএসের কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের লক্ষ্যে গৃহীত।
সেনেটের মোট ১০০ সদস্যের মধ্যে ৫৩ জন রিপাবলিকান, ফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া বিলটি পাস করা কঠিন। বৃহস্পতিবারের প্রক্রিয়াগত ভোটে ৪৫-৫৫ অনুপাতের ফলাফল দেখা যায়; সব ডেমোক্র্যাট এবং আটজন রিপাবলিকান সদস্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধিতা করেন।
সেনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আইসিই তহবিলের কোনো অংশে তিনি ভোট দেবেন না, যতক্ষণ না তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার করা হয়। তিনি পরিস্থিতিকে “অযৌক্তিক” এবং “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের দাবি তীব্র করেন।
রিপাবলিকান সেনেট মেজরিটি লিডার জন থিউন উল্লেখ করেন যে দুই পক্ষের মধ্যে “উৎপাদনশীল” আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান আলোচনায় উভয় পক্ষই নিজেদের মূল লক্ষ্য রক্ষা করতে চাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস এবং সেনেটের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের মধ্যে ডিএইচএসের জন্য স্বল্পমেয়াদী তহবিল সম্প্রসারণের বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা তাত্ক্ষণিকভাবে সরকারী কার্যক্রম চালু রাখতে সহায়তা করবে।
যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে সপ্তাহান্তে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার বন্ধ হয়ে যাবে, যা কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শাটডাউনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এই পরিস্থিতি ফেডারেল কর্মচারী, সেবা গ্রাহক এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিলের কোনো পরিবর্তন হলে তা পুনরায় হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে, যা সোমবার পুনরায় সেশনে ফিরে আসবে। হাউসের সদস্যদের পুনরায় ভোটের আগে অতিরিক্ত আলোচনার সময় থাকবে।
কিছু সেনেট ডেমোক্র্যাট আরও তীব্র দাবি তুলে ধরেছেন; তারা ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমের পদত্যাগ এবং আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্যাট্রোল (সিবিপি) এর কাঠামোগত সংস্কার দাবি করছেন। এই দাবিগুলি আইসিই সম্পর্কিত নীতি ও পরিচালনায় মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিলের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, তবে উভয় পার্টির মধ্যে সমঝোতা না হলে সরকারী বন্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং ফেডারেল সেবার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে এই পরিস্থিতি কংগ্রেসে পার্টি ভিত্তিক বিভাজনকে আরও তীব্র করবে এবং পরবর্তী বাজেট চক্রে আরও কঠিন আলোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সেনেটের বর্তমান ভোট ডেমোক্র্যাটদের আইসিই সংস্কার ও ডিএইচএস তহবিলের ওপর কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, আর রিপাবলিকানদের মধ্যে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সমঝোতা এবং হাউসের পুনরায় অনুমোদনই নির্ধারণ করবে যে সরকার শাটডাউনের মুখোমুখি হবে কিনা।



