মাইক্রোসফটের ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যয় এবং আয় সম্পর্কিত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্যাট্যা নাডেলা ত্রৈমাসিক আয় কলের সময় কোপাইলট AI-র ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বলে জোর দিয়ে বলেন, তবে একই সঙ্গে কোম্পানির বিশাল মূলধন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মাইক্রোসফটের ত্রৈমাসিক আয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট রাজস্ব $81.3 বিলিয়ন হয়েছে, যা পূর্ব ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিট মুনাফা $38.3 বিলিয়ন, যা ২১% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ক্লাউড সেবা থেকে আয় $50 বিলিয়নেরও বেশি, যা কোম্পানির রেকর্ড স্তর।
এই শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল সত্ত্বেও, শেয়ার মূল্যের উপর চাপ পড়ে। বিশ্লেষকরা মাইক্রোসফটের ক্লাউড অবকাঠামো এবং AI-তে ব্যয়কে দীর্ঘমেয়াদী রিটার্নের প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, কোম্পানির প্রথমার্ধের মূলধন ব্যয় $72.4 বিলিয়ন, যা পুরো পূর্ববছরের $88.2 বিলিয়নের কাছাকাছি, এবং এই ব্যয় মূলত AI সেবা ও ল্যাবগুলোর জন্য করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফটের AI ব্যয়ের প্রধান গ্রাহক হিসেবে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক উল্লেখযোগ্য। উভয় সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মাইক্রোসফটের ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে AI ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবা তৈরি করতে পারে। তবে, এই বিনিয়োগের ফলাফল কত দ্রুত আয় হিসেবে রূপান্তরিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হল মাইক্রোসফটের মূল এন্টারপ্রাইজ পণ্য, অ্যাজুর এবং মাইক্রোসফট ৩৬৫। উভয় সেগমেন্টের বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার নিচে নেমে এসেছে, যা শেয়ার মূল্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। UBS বিশ্লেষক কার্ল কেয়ারস্টেডের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দুই সেবা প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছাতে পারেনি, যদিও তিনি শেয়ার কেনার সুপারিশ করেন।
কয়েক মাস আগে, বাজারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে কোপাইলট AI ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। কোপাইলট মাইক্রোসফটের বিভিন্ন পণ্যে সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও, ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। নাডেলা এই উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য আয় কলের সময় AI ব্যবহারের প্রচারমূলক বক্তব্য দেন।
নাডেলা উল্লেখ করেন যে, কোপাইলটের ভোক্তা-সেবা ব্যবহারকারী সংখ্যা বছর থেকে বছর প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংখ্যা চ্যাট, সংবাদ ফিড, সার্চ, ব্রাউজিং, শপিং এবং অন্যান্য ইন্টিগ্রেশনসহ বিভিন্ন ফিচারকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, এই বৃদ্ধির সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করে কেবল আনুমানিক বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে।
মাইক্রোসফটের ব্যয় কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, AI এবং ক্লাউড অবকাঠামোতে ব্যয় কোম্পানির মোট মূলধন ব্যয়ের প্রায় ৮০% অংশ গঠন করে। এই উচ্চ ব্যয় মডেল দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা বাড়াতে পারে, তবে স্বল্পমেয়াদে শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
বাজারের দৃষ্টিতে, মাইক্রোসফটের ক্লাউড সেবার চাহিদা এখনও শক্তিশালী, তবে প্রতিযোগিতা তীব্র। গুগল ক্লাউড এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে তুলনা করলে, মাইক্রোসফটের বৃদ্ধির গতি সাময়িকভাবে ধীর হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, AI-র ব্যবহারিকতা এবং গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা কোম্পানির জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার।
শেয়ারবাজারের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে, বিনিয়োগকারীরা মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির জন্য AI-র বাস্তবিক প্রয়োগ এবং ক্লাউড সেবার স্কেলেবিলিটি দেখতে চান। মূলধন ব্যয়ের ধারাবাহিকতা এবং তা থেকে সৃষ্ট রিটার্নের স্পষ্টতা না থাকলে, শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মাইক্রোসফটের ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল শক্তিশালী হলেও, AI এবং ক্লাউডে ব্যয়ের মাত্রা ও ব্যবহারকারী গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বাজারে সন্দেহ রয়ে গেছে। নাডেলার কোপাইলট ব্যবহার বৃদ্ধির দাবি সত্ত্বেও, বাস্তবিক ব্যবহার এবং আয় রূপান্তরের স্পষ্টতা না থাকলে, বিনিয়োগকারীর মনোভাব সতর্ক থাকবে। ভবিষ্যতে, মাইক্রোসফটের AI-ভিত্তিক সেবার বাজারে গ্রহণযোগ্যতা এবং মূলধন ব্যয়ের দক্ষতা নির্ধারণ করবে শেয়ারবাজারে তার পারফরম্যান্সের দিক।



