জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রঙপুরের নিজ বাসভবন স্কাইভিউতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়ে বলেন, গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সংস্কারের নামে গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার সময়সীমা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ।
কাদেরের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, বর্তমান সরকার গণভোটকে ‘সংস্কার’ বলে উপস্থাপন করলেও প্রকৃত সংস্কার কী হবে তা স্পষ্ট করে না। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা বজায় রাখতে চায়, আর এ প্রক্রিয়ায় দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এদিকে, তিনি সরকারকে ‘সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার’ পথে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন, যা পাকিস্তানি চিন্তাধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সহিংসতা ও ভয়ভীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের দিন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়, কারণ বিভিন্ন দলকে সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। “একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে সমান সুযোগের অভাব দেখা দিচ্ছে,” তিনি বলেন। দুইটি প্রধান দল মাঠে দাপটের সঙ্গে উপস্থিত, তবে জাতীয় পার্টি এই সুযোগ পায় না।
কাদেরের মতে, ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে না আসার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।” এ কারণে তিনি ভোটারদের ‘না’ বলার আহ্বান জানান, যাতে গণভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা না হয়।
গণভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে কাদেরের মন্তব্যে তিনি সতর্ক করেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে স্বাধীনতা নয়, বরং গুলামিত্বের নতুন রূপ গড়ে উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে মব তৈরি করে সহিংসতা চালাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, মিল-ফ্যাক্টরি ধ্বংস এবং ভয় দেখানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে হবে, তিনি জোর দেন।
কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু, যিনি কথোপকথনে কাদেরের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে দেশের মৌলিক স্বাতন্ত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।” উভয়ই একমত যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি।
কাদেরের মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময়কালে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে, যা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকারের ব্যবহারকে প্রভাবিত করছে।
অধিকন্তু, কাদেরের মতে, সরকার গণভোটকে ‘সংস্কার’ বলে উপস্থাপন করলেও, প্রকৃত সংস্কার কী হবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি দাবি করেন, সরকার ‘সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী’ নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানি আদর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যা স্বাধীন বাংলাদেশের মৌলিক নীতিকে ক্ষুণ্ন করবে।
জাতীয় পার্টি এই মুহূর্তে গণভোটের বিরোধিতা করে, এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে। কাদেরের বক্তব্যের ভিত্তিতে, গণভোটের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তন করে স্বৈরাচারী শাসনের পথে নিয়ে যেতে পারে, যা তিনি ‘গোলামিত্বের নতুন রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই বিবৃতি ও মন্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, গণভোটের ফলাফল ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলবে। কাদেরের মতামতকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো গণভোটের বিরোধিতা করে, এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে দেশের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে।
গণভোট ও আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, সহিংসতা কমানো এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কাদেরের মন্তব্য এই দিক থেকে একটি স্পষ্ট সতর্কতা, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



