মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ক্যাবিনেট সভায় জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ ও অন্যান্য শহরে এক সপ্তাহের জন্য সামরিক আক্রমণ বন্ধের অনুরোধ করেছেন। রাশিয়া এই অনুরোধে সম্মতি জানিয়ে আংশিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য শীতকালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের তীব্রতা শীতের তীব্রতায় আরও বাড়ছে এবং এই মুহূর্তে হামলা বন্ধ করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই অনুরোধটি পুতিনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
পুতিনের অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, রাশিয়ার সামরিক বিশ্লেষক ও ব্লগারদের সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ইউক্রেনের যেকোনো অবকাঠামোতে গোলাগুলি বা আক্রমণ চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। একই নিষেধাজ্ঞা কিইভ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সব স্থাপনার ওপরও প্রযোজ্য হবে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
তবে রাশিয়া পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি, ফলে আংশিক যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ধরনের সমঝোতা পূর্বে ব্যক্তিগত স্তরে ঘটলেও, তা পরবর্তীতে কার্যকর করা হয়নি।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ধারাবাহিক বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এই হামলার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ শীতের তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভুগছে; তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানাচ্ছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি শীতের তীব্রতা আগে কখনো দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করে, রাশিয়ার হামলা বন্ধ করা একটি “খুবই ভালো” সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এই মন্তব্যের পরেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহের স্রোত বজায় রয়েছে।
রাশিয়ার সামরিক ব্লগার ভ্লাদিমির রোমানভের মতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের যেকোনো অবকাঠামোতে গোলাগুলি বা আক্রমণ চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। একই নিষেধাজ্ঞা কিইভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সব স্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে তিনি জানান। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ না চালানোর নির্দেশনা শেয়ার করা হয়েছে।
আবুধাবিতে এই সপ্তাহান্তে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রোববার থেকে নতুন আলোচনার সূচনা করবেন, তবে পুতিনের অতিরিক্ত ভূখণ্ড দখলের দাবির কারণে চুক্তি এখনও আটকে আছে। এই আলোচনার ফলাফল ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি আংশিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইউক্রেনের নাগরিকদের শীতকালীন কষ্ট কমাতে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না থাকলে এই বিরতি স্বল্পমেয়াদী হতে পারে এবং সামরিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে দু’দেশের কূটনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও ইউক্রেনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর।



