বিগ ব্যাশে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী হারিস রউফ, যিনি সাম্প্রতিক মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পেসার হিসেবে শোয়েছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক আরন ফিঞ্চ এবং প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক উভয়ই বিস্মিত প্রকাশ করেছেন। রউফের বাদ পড়া টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্রীড়া জগতে।
রউফের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রেকর্ডে এখন পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচে ২৩টি উইকেট রয়েছে, যা তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম কার্যকর বোলার করে তুলেছে। তার মোট ৯৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮.৩৮ রানের গড়ে অর্থনীতি বজায় রেখে ১৩৩টি উইকেট নেওয়া হয়েছে, এবং তিনি পাঁচবার চারটি উইকেটের শিকার করেছেন, তবে একবারও পাঁচটি উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছাতে পারেননি।
বিগ ব্যাশে রউফের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উজ্জ্বল। মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে তিনি ১১টি ম্যাচে ২০টি উইকেট সংগ্রহ করেন, এবং অতিরিক্ত এক ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের অধিনায়ক জ্যাক অ্যাডওয়ার্ডসের তত্ত্বাবধানে ১৯টি উইকেট নেন, যা তার শিকার ক্ষমতাকে আরও প্রমাণ করে। এই ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও রউফের নাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তালিকায় না থাকা অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
আর্ন ফিঞ্চ রউফের বাদ পড়া নিয়ে মন্তব্যে জানান, তিনি সত্যিই অবাক হয়েছেন যে রউফ পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ দলে নেই। ফিঞ্চের মতে রউফ দলের জন্য এক্স‑ফ্যাক্টর হতে পারে, যদিও কখনও কখনও তার বোলিং সামান্য খরুচে হতে পারে। তবু তিনি জোর দেন যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার প্লে, মাঝের ওভার এবং ডেথ ওভারে উইকেট নেওয়া বোলার থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্যাটিং‑সহায়ক পিচে। তাই রউফের অনুপস্থিতি তাকে বিস্মিত করেছে।
মাইকেল ক্লার্কের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন এবং পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কৌশলগত পরিকল্পনা রউফকে দলে না রাখার মূল কারণ হতে পারে। ক্লার্কের মতে অস্ট্রেলিয়ায় খেলা এবং শ্রীলঙ্কা ও ভারতে খেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে, এবং দল গঠন কন্ডিশন ও খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। ফলে রউফকে বিগ ব্যাশে যে ভূমিকা দেওয়া হয়েছিল, তা বিশ্বকাপের জন্য একইভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হবে, এবং পাকিস্তান ক্রিকেট দল এ গ্রুপে শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচগুলো খেলবে। রউফের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি তার অভিজ্ঞতা ও গতিশীলতা দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সারসংক্ষেপে, রউফের শীর্ষ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ দলে না থাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ও প্রাক্তন অধিনায়কেরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, এবং তাদের মন্তব্যে কন্ডিশন, ভূমিকা এবং দল গঠনের সূক্ষ্মতা তুলে ধরা হয়েছে। টুর্নামেন্টের সূচনা নিকটবর্তী হওয়ায় রউফের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কৌশল উভয়ই নজরে থাকবে।



