উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের স্মার্টফোনে লাল টেপ লাগিয়ে রাখা দেখা গেছে, যা সাইবার হ্যাকারদের সম্ভাব্য নজরদারি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি তার ফোনের ক্যামেরা লেন্সে ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট স্টিকার দিয়ে ঢেকে রাখার ছবি প্রকাশ করে এই পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, উচ্চ প্রোফাইল ব্যক্তিদের ডিভাইসগুলোতে দূরবর্তীভাবে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু করে গোপন তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি সর্বদা থাকে।
সাইবার জগতে “পেগাসাস” নামে পরিচিত উন্নত স্পাইওয়্যারটি সবচেয়ে বেশি আলোচ্য। এই সফটওয়্যারটি একবার ডিভাইসে প্রবেশ করলে হ্যাকাররা দূর থেকে ফোনের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, মেসেজ এবং লোকেশন ডেটা সক্রিয় করতে পারে, ফলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই অডিও‑ভিডিও রেকর্ড হয়। পেগাসাসের মতো টুলগুলো শূন্য-দূরত্বের সংযোগ ব্যবহার করে, তাই ব্যবহারকারীকে কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না।
বিশেষ করে সরকারী কর্মকর্তার মতো উচ্চ প্রোফাইল ব্যক্তির ক্ষেত্রে, এই ধরনের নজরদারি গোপন তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গোপন নীতি, কূটনৈতিক আলোচনা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল ডেটা একবার ফাঁস হলে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিরাপত্তা সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো শারীরিক স্তরে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি হল ক্যামেরা লেন্সের ওপর ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট স্টিকার বা লাল টেপ লাগিয়ে রাখা। এই স্টিকারটি স্বচ্ছভাবে লেন্সকে ঢেকে রাখে, ফলে ক্যামেরা কোনোভাবে সক্রিয় হলেও ছবি বা ভিডিও রেকর্ড হয় না। একই সঙ্গে স্টিকারের পৃষ্ঠে বিশেষ রঙের টেপ ব্যবহার করা হয়, যা সরিয়ে ফেললে বা সামান্য নড়াচড়া করলে স্পষ্ট চিহ্ন রেখে যায়। এই চিহ্নটি নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য তৎক্ষণাৎ সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা সম্ভাব্য হ্যাকিং প্রচেষ্টা নির্দেশ করে।
স্টিকারের ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট বৈশিষ্ট্যটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে, একবার লেন্সে লাগিয়ে দিলে তা সহজে সরানো যায় না। যদি কেউ জোরে টেনে সরানোর চেষ্টা করে, তবে স্টিকারের পৃষ্ঠে রঙের ফাটল বা ছেঁড়া চিহ্ন দেখা যায়। এই দৃশ্যমান পরিবর্তন ব্যবহারকারীকে জানায় যে স্টিকারটি সম্ভাব্যভাবে ছিন্ন হয়েছে এবং ডিভাইসটি পুনরায় পরীক্ষা করা দরকার।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শারীরিক বাধা ব্যবহার করা সফটওয়্যার‑ভিত্তিক সুরক্ষার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সফটওয়্যার আপডেট, এনক্রিপশন এবং মাল্টি‑ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, হ্যাকাররা কখনও কখনও শূন্য‑দূরত্বের দুর্বলতা ব্যবহার করে সরাসরি হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণে পৌঁছাতে পারে। তাই ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের ওপর শারীরিক বাধা রাখলে হ্যাকারদের জন্য তথ্য সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বহু আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিকে “কমপ্লিমেন্টারি সিকিউরিটি লেয়ার” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, শারীরিক ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট স্টিকার ব্যবহার করলে ডিভাইসের ব্যবহারিকতা কমে না, বরং নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য, যেখানে তথ্যের গোপনীয়তা অগ্রাধিকার, এই ধরনের সহজ কিন্তু কার্যকর সমাধান বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সংহতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তা নীতি গঠনের সময় শারীরিক ও ডিজিটাল উভয় দিককে সমন্বিত করে নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ক্যামেরা লেন্সে ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট স্টিকার ব্যবহার করা একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ, যা উচ্চ প্রোফাইল ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে।
সারসংক্ষেপে, নেতানিয়াহুর ফোনে লাল টেপের ব্যবহার শুধু একটি দৃশ্যমান চিহ্ন নয়, বরং সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিরোধের উদাহরণ। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ট্যাম্পার‑এভিডেন্ট স্টিকার উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ডিভাইসকে স্পাইওয়্যার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কার্যকর উপায়। শারীরিক বাধা এবং সফটওয়্যার সুরক্ষার সমন্বয় ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা কৌশলের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে।



