হাটিরঝিলের অ্যামফিথিয়েটারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ড থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশ নারী ফুতসাল দলের সদস্যরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বিএফএফ) আয়োজন করা স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। দলটি এশিয়া ফুটবলের প্রথম এফএফইউ নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপ্রতিদ্বন্দ্বিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরে এসেছে।
বিএফএফের প্রতিনিধিরা সন্ধ্যা ৮:১৫ টায় দলকে স্বাগত জানিয়ে ট্রফি নিয়ে একটি ছোট পারেডের আয়োজন করেন। খেলোয়াড়রা ভিড়ের মাঝে ট্রফি ঘুরিয়ে দেখিয়ে উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত তৈরি করেন। পারেডের পর কয়েকশো উচ্ছ্বসিত ভক্তদের সমাবেশে দলটি অ্যামফিথিয়েটারে প্রবেশ করে।
পটভূমিতে গানের সুরে “We are the champions” বাজতে থাকে, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। একে একে খেলোয়াড় ও দলীয় কর্মকর্তারা ফুল হাতে স্বাগত পান। শেষমেশ ক্যাপ্টেন সাবিনা, ঝলমলে ট্রফি হাতে, দর্শকদের গর্জনে মঞ্চে প্রবেশ করেন।
সাবিনার ভাষণে তিনি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “আপনাদের উপস্থিতি ও সমর্থনই আমাদের জন্য বড় প্রেরণা। এই সাফল্য আপনারাই, তাই ট্রফিটি আপনার জন্যই উত্সর্গ করছি” বলে তিনি দলকে উৎসাহিত করেন। তার কথায় ভক্তদের উল্লাস আরও বাড়ে।
সাবিনা সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের উত্সাহের কথাও উল্লেখ করেন। “প্রতিটি জয়ের পর আপনারা যে উত্সাহ দেখান, তা আমাদের জন্য শক্তির উৎস। এই ট্রফি আপনারা ও দেশের মানুষের জন্য” তিনি বলেন। তার এই বক্তব্যে ভক্তদের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
টুর্নামেন্টে ছয়টি ম্যাচে মোট চৌদ্দটি গোল করে সাবিনা শীর্ষ স্কোরার খিতাব অর্জন করেন। তার গোলের সংখ্যা পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ, যা দলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজের নামকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে স্থায়ী করে তুলেছেন।
ইরানীয় কোচ সাঈদ খোদারহমি সাবিনার প্রশংসা না থামিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে ফুতসাল মাত্র পাঁচ মাস আগে শুরু হয়েছে, তবু এখানে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি এমন এক খেলোয়াড় যাকে ইরান বা এশিয়ার অন্য কোনো দল পায় না, তিনি হলেন ক্যাপ্টেন সাবিনা।” কোচের মন্তব্যে দলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
কোচের মতে, ফুতসাল শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ দ্রুতই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “ফুতসালের দ্রুত বিকাশে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ভক্তদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটি আরও উন্নতির পথে অগ্রসর হবে।
সাবিনা ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে এশিয়া নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার শিরোপা জিততে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে পৌঁছেছে, যা দেশের ক্রীড়া জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অভিনন্দন অনুষ্ঠানের পর দলটি হাটিরঝিলের পার্কে ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পায়। ভক্তরা ট্রফি হাতে ক্যাপ্টেনকে আলিঙ্গন করে এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয়। এই মুহূর্তগুলো ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
বিএফএফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারী ফুতসাল দলের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে। দলটি আগামী মাসে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেবে, যেখানে তারা আবার দেশের গর্ব বাড়ানোর লক্ষ্য রাখবে।
এই বিজয় এবং ভক্তদের সমর্থনকে একত্রে দেখে স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশি নারী ফুতসাল এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্যাপ্টেন সাবিনার নেতৃত্বে দলটি দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় লিখছে, এবং ভক্তদের সঙ্গে এই সাফল্যের ভাগাভাগি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে।



