২৯ জানুয়ারি, পাকিস্তানের ফেডারেল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যিনি আদিয়ালা কারাগারে আটক, চোখের সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার করেছেন। মন্ত্রীর মতে, রোগীর অবস্থা নিয়ে কোনো গুরুতর উদ্বেগের বিষয় নেই এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা করার পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ইমরান খানকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (PIMS) এ স্থানান্তর করা হয়। শনিবার রাতেই রোগীকে PIMS-এ নিয়ে গিয়ে, প্রয়োজনীয় চক্ষু পরীক্ষা ও লিখিত সম্মতি নিয়ে প্রায় বিশ মিনিটের একটি সরল চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসা শেষে রোগীকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ার সময় ইমরান খানের মৌলিক শারীরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সন্তোষজনক। তিনি আলহামদুলিল্লাহ্ বলে প্রকাশ করেছেন যে, রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
বন্দি অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ সেবা নিশ্চিত করা আইনগত দায়িত্বের অংশ, মন্ত্রী এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছেন। তাই, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে, PTI ও তার মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা দাবি করেন যে, কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলীয় নেতা ও পারিবারিক সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ প্রদান করা হয়নি।
PTI চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান উল্লেখ করেন, ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে ইমরান খানের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তিনি আদালতে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করার কথা জানান, তবে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তিনি ইমরান খানকে চোখের সংক্রমণে ভুগছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রতিক্রিয়ায় আতাউল্লাহ তারার স্পষ্টভাবে বলেন যে, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা গুরুতর নয় এবং এমন কোনো তথ্য ভিত্তিহীন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের উন্নতি PTI-র নেতৃত্বে কিছুটা শিথিলতা আনতে পারে, তবে আদালতে সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়া এবং কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা সংক্রান্ত আলোচনাগুলি এখনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রাখবে। ভবিষ্যতে, যদি আদালত অনুমোদন দেয়, তবে দলীয় নেতারা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেতে পারে, যা PTI-র জনমত গঠনেও প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, ইমরান খানকে চোখের চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর সম্পূর্ণ সুস্থ বলে সরকারী সূত্র নিশ্চিত করেছে, তবে PTI-র পূর্বের উদ্বেগ ও আদালতগত চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।



