অ্যাপল ইসরায়েল ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ Q.ai-কে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপটি অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং শিল্পে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অধিগ্রহণের সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ না করলেও, সূত্র অনুযায়ী চুক্তির মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। যদি এই সংখ্যা সঠিক হয়, তবে Q.ai অধিগ্রহণটি অ্যাপলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রয়, যা ২০১৪ সালে ৩ বিলিয়ন ডলারে Beats কেনার পরে আসে।
অ্যাপলের হার্ডওয়্যার টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনি স্রৌজি Q.ai-কে “একটি অসাধারণ কোম্পানি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ইমেজিং এবং মেশিন লার্নিং ক্ষেত্রে নতুন ও সৃজনশীল পদ্ধতি অনুসন্ধান করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রযুক্তি অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পণ্যগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যাপল এখনও কীভাবে Q.ai-র প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তা প্রকাশ করেনি, তবে Q.ai দ্বারা দাখিল করা পেটেন্টগুলো হেডফোন বা স্মার্ট গ্লাসে মুখের ত্বকের ক্ষুদ্র নড়াচড়া ব্যবহার করে কথাবার্তা ছাড়াই যোগাযোগের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই ধারণা ভবিষ্যৎ ওয়্যারেবল ডিভাইসের ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
অধিগ্রহণের অংশ হিসেবে Q.ai-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অ্যাভিয়াড মাইজেলস এবং তার দল অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত হবে। মাইজেলসের দল প্রযুক্তিগত দিক থেকে অ্যাপলের গবেষণা ও উন্নয়ন টিমে সরাসরি কাজ করবে বলে জানা যায়।
অ্যাভিয়াড মাইজেলসের অ্যাপলের সঙ্গে পূর্বের সম্পর্ক ২০১৩ সালে তার প্রতিষ্ঠিত প্রাইমসেন্স কোম্পানি বিক্রির মাধ্যমে শুরু হয়। প্রাইমসেন্স ৩ডি সাউন্ড প্রযুক্তি সরবরাহ করত, যা পরে অ্যাপলের ডিভাইসগুলিতে সংযুক্ত হয়। এইবারের অধিগ্রহণ তার দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাপলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ককে দৃঢ় করে।
বছরের পর বছর ধরে শিল্প বিশ্লেষকরা অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে আসছেন। বিশেষত গুগল ও মেটা-র মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা AI-তে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করে, তাই অ্যাপলের জন্য স্বতন্ত্র AI সমাধান গড়ে তোলা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাপলের সিইও টিম কুকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক ফলাফল ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে কোম্পানি এমন M&A-তে উন্মুক্ত যা তার রোডম্যাপকে ত্বরান্বিত করে। Q.ai অধিগ্রহণকে এই নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশকে স্পষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, Q.ai-র প্রযুক্তি অ্যাপলকে নিজস্ব AI চ্যাটবট তৈরি করার সুযোগ দিতে পারে, ফলে সিরি সহায়ক সেবার জন্য গুগলের AI-তে নির্ভরতা কমে যাবে। স্বতন্ত্র চ্যাটবটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ও ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা সম্ভব হবে।
ইমেজিং ও মেশিন লার্নিং সংযুক্ত এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্মার্ট হেডফোন, অগমেন্টেড রিয়েলিটি গ্লাস এবং অন্যান্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে সংযোজিত হতে পারে। মুখের সূক্ষ্ম মুভমেন্টের মাধ্যমে কমান্ড গ্রহণের ধারণা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ করে তুলবে।
অ্যাপল এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে AI গবেষণার জন্য নতুন মানবসম্পদ ও পেটেন্ট পোর্টফোলিও অর্জন করেছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শিল্পে AI-র ভূমিকা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপলও এই প্রবণতায় নিজেকে স্থাপন করতে চাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, Q.ai-র অধিগ্রহণ অ্যাপলের AI ও ইমেজিং প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটাবে এবং ভবিষ্যৎ পণ্যগুলিতে নতুন ব্যবহারিক ফিচার যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই পদক্ষেপটি অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতা অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



