বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৯ বছর পর নিজের মূল গ্রাম বগুড়া ফিরে এলেন, রাত ১১ঃ৪৮টায় আলতাফুননেসা মাঠে পৌঁছে নির্বাচনী র্যালি শুরু করেন। তার সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং র্যালি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত ভিড়ের উল্লাস শোনা গেল।
বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকে তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে, তাই তার উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। র্যালির স্থানটি বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই বিভিন্ন দলীয় নেতা ও কর্মীদের সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
মাঠে বড় স্ক্রিন ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়, যাতে ভিড়ের বড় অংশকে স্পষ্টভাবে দেখা ও শোনা যায়। বিএনপি পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে মাঠটি সজ্জিত করা হয়, আর র্যালি শুরু হওয়ার পরেও আরও বেশি সমাবেশকারী পথে পথে যোগ দিচ্ছিলেন।
তারেক যখন মঞ্চে উঠলেন, তখনই সমর্থকরা বিএনপি ও ধান কুঁড়ি চিহ্নের স্লোগান গাইতে শুরু করেন। এই স্লোগানগুলোতে দলীয় ঐতিহ্য ও তারেকের রাজনৈতিক পরিচয় উভয়ই প্রকাশ পেয়েছিল।
মাঠের ক্ষমতা পূর্ণ হওয়ার পরেও ভিড়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে; অনেকজন রাস্তা, ফুটপাত ও খালি জমিতে দাঁড়িয়ে র্যালি দেখছিলেন। অতিরিক্ত স্ক্রিন ও স্পিকারের মাধ্যমে সবাইকে র্যালির দৃশ্য ও শব্দ পৌঁছে দেওয়া হয়।
রবিবারের আগে, তারেক রাজশাহী ও নওগাঁয়ের র্যালি শেষ করে বগুড়ি পথে রওনা হন। রওনা পথে সমর্থকরা দু’পাশে সারি গেঁথে তাকে স্বাগত জানিয়ে হাততালি ও নাড়ি তুলছিলেন।
বগুড়ি তারেকের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি ২০০৬ সালে শেষবার এই শহরে উপস্থিত ছিলেন। তারেকের শেষ সফর থেকে ১৯ বছর অতিবাহিত হওয়ায় এই ফিরে আসা সমর্থকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, তারেকের রাজনৈতিক যাত্রা এই জেলারই মাটিতে শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি গাবতলী উপজেলা বিএনপি শাখায় ২২ বছর বয়সে যোগদান করেন এবং তখন থেকেই দলীয় কাজকর্মে সক্রিয় ছিলেন।
তারেকের এই সফরকে দলীয় কর্মীরা ‘বগুড়া ফিরে আসা’ শিরোনামে একটি বড় ইভেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার উপস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা চালু করেছে।
র্যালির শেষে উপস্থিতদের মধ্যে একাধিক দলীয় কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সমাবেশের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা করেন, যা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই র্যালি বগুড়া-৬ আসনের ভোটারদের মধ্যে তারেকের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি, স্থানীয় স্তরে দলীয় সংগঠনের শক্তি পুনরায় যাচাই করার সুযোগও প্রদান করেছে।
বগুড়ি থেকে ফিরে আসার পর তারেকের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে তিনি আরও র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।



