প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইভেন্ট কোঅর্ডিনেটর পাশা তলানকিনের গোপন রেকর্ডিংকে কপেনহেগেনের চলচ্চিত্র নির্মাতা ডেভিড বোরেনস্টেইন সংযুক্ত করে তৈরি ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট ভ্লাদিমির পুতিন’ ডকুমেন্টারিটি রুশ গ্রাম্য জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট, বোরেনস্টেইন পরিচালক, তলানকিন সহ-নির্দেশক ও চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন।
রাশিয়া‑ইউক্রেন সংঘর্ষের আন্তর্জাতিক মনোযোগের মাঝেও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিরোধের ছবি তুলে ধরতে ‘নাভালনি’ ও ‘মাই আনডেজায়ারেবল ফ্রেন্ডস: পার্ট I — লাস্ট এয়ার ইন মস্কো’ মত ডকুমেন্টারিগুলি সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক কাজগুলো দেখায় যে ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনে বিরোধের স্রোত এখনও নিস্তেজ নয়।
তলানকিন তার কাজের সময় বিদ্যালয়ের ক্লাস, মাঠ এবং রাষ্ট্রের প্রচারমূলক প্রোগ্রাম রেকর্ড করেন। রেকর্ডিংগুলোকে এনকোডেড ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিরাপদে কপেনহেগেনের বোরেনস্টেইনের কাছে পাঠানো হয়, যাতে তার পরিচয় গোপন থাকে এবং কোনো আইনি ঝুঁকি না থাকে।
ফুটেজে দেখা যায় কীভাবে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রচার মেশিন সর্বনিম্ন বয়সের শিশুরা পর্যন্ত প্রভাবিত করে, প্রতিটি স্কুলে, বিশেষ করে তলানকিনের জন্মস্থান করাবাশে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ও দুঃখজনক স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে শহরের শিশু, ভাইবোন ও পিতার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা শাসনের নীতি ও পরিবেশগত অবহেলার সরাসরি ফলাফল।
চলচ্চিত্রটি বিশাল যুদ্ধচিত্রের বদলে নীরব পর্যবেক্ষণমূলক শৈলীতে নির্মিত। কোনো বর্ণনা বা বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য না দিয়ে কাঁচা দৃশ্য ও পারিপার্শ্বিক শব্দের মাধ্যমে পরিবেশের তীব্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়সীমা গল্পকে কেন্দ্রীয় ঘটনার ওপর কেন্দ্রীভূত রাখে, অতিরিক্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে দূরে রাখে।
‘মাই আনডেজায়ারেবল ফ্রেন্ডস’ পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘতা ও অস্কার ডকুমেন্টারি ফিচার তালিকায় না থাকায় প্রশ্ন তুলেছে, তবে ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট ভ্লাদিমির পুতিন’ তার সংযত পদ্ধতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে একই ক্যাটেগরিতে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। একাডেমি ভোটারদের জন্য ব্যক্তিগত গল্পের আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই চলচ্চিত্রটি প্রোপাগান্ডার প্রবেশদ্বারকে উন্মোচন করে, যেখানে শিশুরা রাষ্ট্রের বর্ণনা শোষণ করে। গোপন রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এখনও বিদ্যমান, তা দেখিয়ে দেয় যে সেন্সরশিপের মুখেও তথ্যের স্রোত বন্ধ করা কঠিন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলচ্চিত্র উৎসব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিরোধকে তুলে ধরতে আগ্রহী। এই কাজগুলো বিশ্ব দর্শকদের রাশিয়ার সাধারণ মানুষের বাস্তবতা সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়, যা পূর্বে সীমিত ছিল।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এনকোডেড ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ডেটা স্থানান্তর আধুনিক কর্মী সক্রিয়তার উদাহরণ। বোরেনস্টেইনের সম্পাদনা ফ্র্যাগমেন্টেড ক্লিপগুলোকে একসঙ্গে যুক্ত করে সুসংগঠিত বর্ণনা তৈরি করেছে, আর তলানকিনের চিত্রগ্রাহক কাজের মাধ্যমে দৃশ্যের স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে।
করাবাশের পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গে মৃত্যুর হার বাড়ার ঘটনা চলচ্চিত্রে মানবিক দিক যোগ করেছে। এই শহরের শিশু ও পরিবারের ক্ষতি দেখিয়ে দেয় কীভাবে পরিবেশগত অবহেলা ও রাজনৈতিক আদর্শ একসঙ্গে ক্ষতি করে।
সোভিয়েত যুগের গোপন প্রকাশনা ঐতিহ্যকে ডিজিটাল চ্যানেলে রূপান্তরিত করে এই প্রকল্পটি বিরোধের ধারাকে অব্যাহত রেখেছে। গোপনীয়তা ও সত্যের অনুসন্ধান এখনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে, যা ঐতিহ্যের মূল উদ্দেশ্যকে বজায় রাখে।
‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট ভ্লাদিমির পুতিন’ একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী সাক্ষ্য যে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিলেও বাস্তবতা রেকর্ড করে। আন্তর্জাতিক পুরস্কার আলোচনায় এর উপস্থিতি রাশিয়ার দূরবর্তী কোণেও আশা জাগিয়ে তুলতে পারে, এবং ছোট ছোট প্রতিবাদকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাতে সহায়তা করে।



