জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের উপ-সভাপতি ওকে গেটলিচ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বয়কটের প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তিনি ইউরোপের বহু জাতীয় সংস্থার সঙ্গে এই বিষয়টি গভীরভাবে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে রাজনৈতিক প্রতিবাদকে পুনরায় সামনে আনছে।
গেটলিচের মন্তব্যে ১৯৮০-এর দশকের অলিম্পিক বয়কটের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঐ সময়ের তুলনায় এখনের হুমকি আরও তীব্র। গেটলিচ একই সঙ্গে হ্যামবার্গের কন্ট্রাকালচার ক্লাব এফসি স্টা. পাউলির সভাপতি, যা তার সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করে।
ফিফার প্রাক্তন সভাপতি সেপ ব্লাটার, যিনি প্রায় নব্বই বছর বয়সী, গেটলিচের প্রস্তাবকে সমর্থনকারী এক প্রাক্তন ফিফা অ্যান্টি-করাপশন আইনজীবীর মন্তব্যকে পুনরায় উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে চলার পরামর্শে সম্মতি প্রকাশ করেছেন, যা বয়কটের রাজনৈতিক মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রায় বিশটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন এই সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে অভ্যন্তরীণ সভা করেছে। তাদের আলোচনায় কীভাবে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
এই আলোচনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি-নির্ধারণের প্রতি আন্তর্জাতিক অসন্তোষ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের প্রতি হুমকি, ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন নীতি সম্পর্কিত ফেডারেল এজেন্টের হিংসাত্মক কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাওয়া হচ্ছে।
কিন্তু ফুটবল সংস্থাগুলি কি সত্যিই এমন একটি বয়কট বাস্তবায়নের ক্ষমতা রাখে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বয়কটের আর্থিক প্রভাব, খেলোয়াড় ও ভক্তদের উপর সম্ভাব্য ক্ষতি, এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারের ওপর প্রভাব সবই বিবেচনা করা দরকার।
বয়কটের মূল লক্ষ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন করা হয়, তবে তা বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা অনিশ্চিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপের প্রতি আগ্রহ কম বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে বয়কটের মাধ্যমে তিনি যে কোনো নীতি পরিবর্তন করবেন এমন সম্ভাবনা কম।
বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ ইভেন্টে বয়কটের প্রভাব সুপার বোলের মতো অন্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত, বয়কটের সাফল্য নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বাস্তবিক বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলি এখনো সিদ্ধান্তের পথে অগ্রসর হচ্ছে।



