জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে বিএনপি নেতা ও পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গৃহিণীদের লক্ষ্য করে নতুন সামাজিক সহায়তা স্কিম ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার ঘোষণা দেন। তিনি ২৯ জানুয়ারি রাতে পার্টির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত পডকাস্টে এই উদ্যোগের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পরিকল্পনাটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপিত, যেখানে লক্ষ্য করা হয়েছে দেশের কোটি কোটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
পডকাস্টে তারেক রহমান একটি ছোট, সাদা রঙের কার্ড দেখিয়ে বলেন, এই কার্ডের নাম ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং এটি গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেন, কার্ডে গৃহকর্ত্রীর নাম, একটি ইউনিক নম্বর, বৈধতার মেয়াদ এবং স্ক্যানযোগ্য চিহ্ন থাকবে, যা পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে।
কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক দুই হাজার পাঁচশো টাকা নগদ বা খাদ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য প্রদান করা হবে। এই অর্থ গৃহিণী সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন, ফলে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সহজ হবে। তদুপরি, এই তহবিল সঞ্চয় করে ভবিষ্যতে সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
তারা পরিকল্পনা অনুসারে চার কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে এই স্কিমের আওতায় আনতে চায়। প্রথমে সব পরিবারকে একসাথে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পূরণে অগ্রসর হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গৃহকর্ত্রীর নাম ও ইউনিক আইডি দিয়ে কার্ড ইস্যু করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারে একটিই কার্ড থাকবে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণীরা সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে, যা ছোটখাটো বিনিয়োগের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু পরিবার এই অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে পারে, ফলে অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি হবে। এই দিকটি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
তারা দেশের মোট পরিবার সংখ্যা প্রায় চার কোটি বলে অনুমান করেন, যার মধ্যে প্রায় সত্তর শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় এবং ত্রিশ শতাংশ শহরে বসবাস করে। তাই প্রথম ধাপের কাজ হবে গ্রামীণ এলাকায় কার্ড বিতরণ, এরপর শহরের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এলাকায় স্কিমটি প্রসারিত করা হবে।
কার্ডের অধিকারী হিসেবে গৃহকর্ত্রীর পেশা কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না; কৃষকের স্ত্রী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রী, ভ্যান চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মচারীর স্ত্রী সবাই এই সুবিধা পেতে পারে। তবে যারা এই সহায়তার প্রয়োজন না করে, তারা কার্ড ফেরত দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে।
বিএনপি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি এই উদ্যোগকে পার্টির সামাজিক ন্যায়বিচার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সময়ে, বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাকে নির্বাচনী সময়ে ভোটার আকর্ষণের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যদিও তারা সরাসরি কোনো সমালোচনা করেনি।
এই স্কিমের বাস্তবায়ন নির্বাচনী পরিসরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ গৃহিণী ভোটারগোষ্ঠীকে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়েছে। যদি পরিকল্পনা সফলভাবে চালু হয় এবং লক্ষ্যবস্তু পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে পৌঁছায়, তবে এটি বিএনপির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে সমজাতীয় কোনো পরিকল্পনা না থাকলে, এই উদ্যোগের তুলনা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, তারেক রহমানের দল কার্ডের উৎপাদন, বিতরণ ও তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গঠন করবে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সব ধাপেই ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, যাতে তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
সারসংক্ষেপে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পটি গৃহিণীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি, এবং নির্বাচনী সময়ে সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে ভোটার আকর্ষণ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে এবং রাজনৈতিক পরিণতি কী হবে, তা সময়ই বলবে।



