গুগল ডিপমাইন্ডের সাম্প্রতিক প্রকল্প ‘প্রোজেক্ট জিনি’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। এই সেবা ব্যবহার করে ব্যবহারকারী নিজস্ব ইন্টারেক্টিভ ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি ও অন্বেষণ করতে পারবেন। গুগল এই সেবার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
ডিপমাইন্ডের গ্রীষ্মকালে প্রকাশিত ‘জিনি ৩’ একটি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত AI সিস্টেম, যা ব্যবহারকারীর চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যের ছবি তৈরি এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। প্রথমে এটি AI এজেন্ট প্রশিক্ষণের টুল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, তবে এখন এটি বৃহত্তর ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
‘জিনি ৩’ মূলত ছবি তৈরি করে এবং ব্যবহারকারী পরিবেশে চলার সময় তা রিয়েল‑টাইমে পরিবর্তন করে। ডিপমাইন্ডের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গেম, সিমুলেশন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তবে বর্তমানে এটি গেম ইঞ্জিনের মতো পূর্ণাঙ্গ গেম মেকানিক্স সরবরাহ করে না।
প্রোজেক্ট জিনি ব্যবহার করতে হলে গুগলের AI Ultra প্ল্যানের মাসিক $২৫০ সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। এছাড়া ব্যবহারকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। এই শর্ত পূরণ করলে তিনটি ভিন্ন মোডে কাজ করা সম্ভব।
প্রথম মোড ‘ওয়ার্ল্ড স্কেচিং’, যেখানে গুগলের ‘ন্যানো বানানা প্রো’ মডেল ব্যবহারকারীকে ভিত্তি ছবি তৈরি করতে সাহায্য করে। এই ছবি ‘জিনি ৩’ পরে সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল বিশ্ব গঠনের জন্য ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী চরিত্রের বর্ণনা, ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ এবং অনুসন্ধানের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন।
ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ প্রথম‑ব্যক্তি, তৃতীয়‑ব্যক্তি অথবা আইসোমেট্রিক যেকোনো একটি হতে পারে। এই বিকল্পগুলো ব্যবহারকারীকে নিজের পছন্দমতো অভিজ্ঞতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। স্কেচিং পর্যায়ে ‘ন্যানো বানানা প্রো’ একটি প্রাথমিক চিত্র তৈরি করে, যা ব্যবহারকারী পরবর্তীতে সমন্বয় ও সংশোধন করতে পারেন।
প্রাথমিক স্কেচের পরে ব্যবহারকারী চূড়ান্ত দৃশ্যের পূর্বদর্শন দেখতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারেন। এই প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীকে দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের নিকটবর্তী ফলাফল পেতে সাহায্য করে। এছাড়া অন্য ব্যবহারকারীরা যে বিশ্ব তৈরি করেছেন তার জন্যও প্রম্পট লিখে নতুন সংস্করণ তৈরি করা সম্ভব।
দ্রষ্টব্য, ‘জিনি ৩’ গেম ইঞ্জিন নয়; যদিও আউটপুট গেমের মতো দেখায় এবং শারীরিক পারস্পরিক ক্রিয়া সিমুলেট করতে পারে, তবু এতে প্রচলিত গেম মেকানিক্সের অভাব রয়েছে। ফলে এটি মূলত সৃজনশীল প্রোটোটাইপ ও গবেষণার জন্য উপযোগী।
প্রতিটি জেনারেশন সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এবং ফলাফল ২৪ ফ্রেম পার সেকেন্ড ও ৭২০পি রেজোলিউশনে উপস্থাপিত হয়। এই প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ব্যবহারকারীকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
AI Ultra সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এই সুযোগটি ডিপমাইন্ডের সাম্প্রতিক দুই বছরের গবেষণার ফলাফল সরাসরি পরীক্ষা করার একটি দরজা খুলে দেয়। ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে বাস্তব সময়ে জটিল দৃশ্য তৈরি করতে পারে তা হাতে‑কলমে অনুভব করতে পারবেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের টুল ভবিষ্যতে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির পদ্ধতিকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে গেম ডেভেলপমেন্ট, ভার্চুয়াল ট্যুর এবং ইন্টারেক্টিভ শিক্ষা ক্ষেত্রে। গুগল ও ডিপমাইন্ডের এই উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার নতুন মডেল স্থাপন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, গুগলের প্রোজেক্ট জিনি ব্যবহারকারীদেরকে সীমিত সময়ের মধ্যে উচ্চমানের ইন্টারেক্টিভ বিশ্ব তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে, যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ গেম ইঞ্জিন নয়। সাবস্ক্রিপশন শর্ত পূরণকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যবহারকারীরা এখনই এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন যে ভবিষ্যতের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা কী রকম হতে পারে।



