সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচার গাড়ি দিরাই উপজেলার তাড়ল এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ২৯ জানুয়ারি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। গাড়ি নির্বাচনী সফরের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় দুইজন হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে গাড়িতে আক্রমণ চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে, আক্রমণকারীরা দ্রুত গাড়ির গ্লাস ও বডি ভেঙে ফেলে পালিয়ে যায়।
দিরাই থানা পুলিশ জানায়, গাড়ি তাড়ল এলাকায় পৌঁছানোর পর হেলমেট পরা দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি দুইটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে গাড়িতে আঘাত করে। হেলমেটের কারণে তাদের চেহারা সনাক্ত করা কঠিন হয়েছে এবং গাড়ির ক্ষতি ব্যাপক। গাড়ির ভাঙচুরের ফলে প্রচার সামগ্রী ও সজ্জা নষ্ট হয়েছে, তবে কোনো মানবিক ক্ষতি রেকর্ড করা যায়নি।
দিরাই থানার ওয়্যারিং অফিসার এনামুল হক ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে জানান, “দুর্বৃত্তরা নির্বাচনী সফরের শেষ রাতে গাড়িতে হামলা করে, তবে হেলমেটের কারণে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাড়ি ভাঙচুরের পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের মতে, আক্রমণকারীদের সনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সাক্ষীদের বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে হেলমেটের ব্যবহার এবং দ্রুত পালানোর ফলে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটায়। তাড়ল এলাকার বাসিন্দারা রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানায়। তবে গাড়ি ভাঙচুরের ফলে কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে। জামায়াত-এ-ইসলামি দলের কর্মীদের মতে, নির্বাচনী প্রচার চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে দলটি ঘটনার তদন্তে পুলিশের সহায়তা চেয়েছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতায় প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের বর্তমান প্রচেষ্টা অনুযায়ী, হেলমেট পরা আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দিরাই থানার ওসি জানান।



