অস্ট্রেলিয়ান গায়িকা-অভিনেত্রী লেডি গাগা টোকিও ডোমে তার পারফরম্যান্সের মাঝখানে এক মুহূর্ত থামিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিই (ICE) সম্পর্কে তার মতামত জানিয়ে শোনালেন। তিনি টোকিওতে উপস্থিত ভক্তদের সামনে এই বিষয়টি তুলে ধরেন, কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিনিয়াপোলিসে দুইজন প্রতিবাদকারীকে আইসিই এজেন্টের হাতে হত্যা করা হয়েছিল।
মিনিয়াপোলিসে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাগা উল্লেখ করেন যে, এই দুজনের মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং পুরো দেশের জন্য একটি সতর্ক সংকেত। তিনি বলেন, এই ঘটনা পরিবার, শিশু এবং সম্প্রদায়ের উপর গভীর আঘাত হানেছে, এবং আইসিই-এর কার্যক্রমের ফলে অনেক মানুষকে নির্দয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
গাগা জানান, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন এবং তার হৃদয় দুঃখে ভরে আছে। তিনি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও পরিবারকে স্মরণ করেন, যারা আইসিই-এর কঠোর নীতি ও কার্যক্রমের কারণে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে। তার কথায় স্পষ্ট যে, তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
মিনেসোটা রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গাগা মন্তব্য করেন যে, সেখানে বাস করা মানুষগুলো ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি হারিয়ে যায়, তখন তা পুরো সমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
যদিও তিনি জাপানে আছেন, গাগা টোকিওর দর্শকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে একসাথে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দূরত্বের বাধা না রেখে সবাইকে একত্রে কাজ করা দরকার, যাতে আইসিই-র নীতি পরিবর্তন হয়।
তার পরের গানের জন্য গাগা একটি বিশেষ নিবেদন করেন। তিনি বলেন, এই গানটি সকলকে উৎসর্গ করা হচ্ছে যারা কষ্টে আছে, একা বোধ করছে, অথবা প্রিয়জনের ক্ষতি ভোগ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুরের মাধ্যমে শোনার মানুষদের মধ্যে আশা ও শক্তি জাগ্রত হবে।
গাগা আরও জোর দিয়ে বলেন, সমাজে নিরাপত্তা, শান্তি এবং দায়িত্বশীলতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। তিনি সরকারকে আহ্বান করেন, যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইসিই-র কার্যক্রমে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করে। তিনি আশা করেন, শাসকরা জনগণের কণ্ঠ শোনার মাধ্যমে নীতি পরিবর্তন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সৎ মানুষদেরকে তাদের মৌলিক অধিকার ও সম্মানের জন্য এত কঠিন লড়াই করতে হবে না। গাগা বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করা উচিত, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে রয়েছে।
গাগা তার ব্যক্তিগত সমর্থন ব্যবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন; তিনি বলেন, তার পরিবার, বন্ধু এবং সম্প্রদায়ই তাকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দিচ্ছে। তিনি এই সমর্থনকে তার সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চান, যাতে শোনার সবাইকে আশার আলো দেখতে পারে।
শেষে, গাগা একটি আশাব্যঞ্জক সুর গেয়ে শেষ করেন, যা শোনার মানুষদের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে। তার এই পারফরম্যান্স কেবল সঙ্গীত নয়, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রতি এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
লেডি গাগার এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে করা বক্তব্য তার বিশাল প্রভাবকে আবারও প্রমাণ করে। তিনি তার বিশ্বজনীন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার বিষয়গুলোকে সামনে আনছেন, যা তার ভক্তদের পাশাপাশি বিস্তৃত জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



