জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৩তম প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে সহিংসতা তীব্রতর হয়েছে। সরকারী প্রচার শুরু থেকে আট দিন কেটে এখন পর্যন্ত অন্তত উনিশটি সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া গেছে। শেরপুরে জামায়াতের এক উপজেলা সেক্রেটারি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের মূল কারণগুলোতে স্থানীয় বিরোধ, সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য এবং এমনকি বসার ব্যবস্থা নিয়ে তর্ক অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনাগুলো মিডিয়া রিপোর্ট এবং পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নথিভুক্ত হয়েছে।
মানবাধিকার সমর্থন সংস্থা (HRSS) অক্টোবর থেকে আজ (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পূর্বে ১১৩টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯৮১ জন আহত এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে, প্রার্থীদের আক্রমণাত্মক আচরণ, বিরোধী দলের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া, হুমকি, গুজব এবং অবমাননাকর মন্তব্যের ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
পুলিশের অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপরাধ ও অপারেশন) খন্ডকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী সময়ে সহিংসতা নতুন নয় এবং এটি অস্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সংস্কৃতি প্রায়ই সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হয়।
রফিকুলের মতে, পুলিশ, অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রিটার্নিং অফিসাররা বিরোধী দলগুলিকে এক টেবিলে বসিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য কাজ করছেন। তবে তিনি জানান, অনেকেই পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করে।
শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘটিত মারামারিতে জামায়াতের নেতা নিহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রফিকুল উল্লেখ করেন, ম্যানিফেস্টো পাঠের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা উচিত ছিল, তবে তা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আট দিনের মধ্যে রিপোর্টকৃত উনিশটি সংঘর্ষের বেশিরভাগই ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা দ্রুত বড় আকারের হিংসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই ঘটনাগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
HRSS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রার্থীদের উগ্রতা, বিরোধী দলের প্রতি ঘৃণা, হুমকি এবং গুজবের প্রচারই মূল চালিকাশক্তি। সংস্থা দাবি করে, এই ধরনের আচরণ না থামলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে।
পুলিশের বর্তমান পদক্ষেপে গ্রেফতার এবং মামলা দায়ের করা অন্তর্ভুক্ত, তবে রফিকুল জোর দিয়ে বলেন যে শুধুমাত্র আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তিনি বলছেন, প্রতিপক্ষ দলগুলোর স্বেচ্ছায় শান্তিপূর্ণ আচরণই মূল সমাধান।
বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে, নির্বাচন কমিশনও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সমঝোতা অর্জিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ভোটের দিনেও অশান্তি বাড়তে পারে এবং ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হতে পারে।
অবশেষে, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোকে আহ্বান করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে পারে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে।



