19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশন সাংবাদিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল করে, কার্ড‑স্টিকার সমস্যার সমাধান চায়

নির্বাচন কমিশন সাংবাদিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল করে, কার্ড‑স্টিকার সমস্যার সমাধান চায়

ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবাদিক নিবন্ধনের পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানায়। কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, নতুন রূপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল নয়, পুরনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিরে যাবে।

এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে সাংবাদিকদের কাজ সহজ করা। ইতিমধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করে অনুমোদনপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের কার্ড ও স্টিকার বৈধ থাকবে, আর নতুন আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আর প্রয়োজন হবে না।

আখতার আহমেদ জানান, ম্যানুয়াল পদ্ধতি চালু করতে কিছু সময় লাগবে, তবে কমিশন দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এই কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে এবং পর্যবেক্ষকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয় আর বিবেচনা করা হবে না।

ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি বিবেচনা করে, কমিশন সাংবাদিকদের জন্য কার্ড ও গাড়ির স্টিকার অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের জানানো হয়, যদি আগামী রোববারের মধ্যে কার্ড ও স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনকালে সংবাদ সংগ্রহ, কাভারেজ ও সম্প্রচারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই সতর্কতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জেবেল উল্লেখ করেন, সাংবাদিক নীতিমালা সংশোধনের দাবি বহু বছর ধরে রয়েছে, তবে এখনো তা কার্যকর হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন কোনো চূড়ান্ত আলোচনাবিহীনভাবে নতুন অনলাইন অ্যাপ চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক নয় এবং ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে সব সাংবাদিককে কার্ড ও স্টিকার প্রদান করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি কমিশনকে পুরনো সহজ পদ্ধতিতে ফিরে আসার দাবি তোলেন, যাতে সময়মতো সেবা প্রদান করা যায়।

শহিদুল ইসলাম আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সমস্যার স্বীকৃতি দিয়ে আশ্বাস দিয়েছে যে রোববারের মধ্যেই, সম্ভব হলে তার আগেই, এই সংকট সমাধান করা হবে। সমাধান না হলে, সাংবাদিক সংগঠনগুলো আবার বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবে।

কমিশনের এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের পূর্বে সাংবাদিকদের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি, নির্বাচনকালীন তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া এবং অনলাইন আবেদন বন্ধ করা কিছু অংশে সময়সীমা বাড়াতে পারে, যা নির্বাচন প্রস্তুতির সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি রোববারের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হয়, তবে নির্বাচন কমিশনের কঠোর সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যা মিডিয়া সংস্থাগুলোর কভারেজ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা কমাতে পারে, তাই দ্রুত সমাধান জরুরি।

সর্বোপরি, নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নির্দেশনা সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও সেবা প্রাপ্তি সহজ করার উদ্দেশ্যে, তবে বাস্তবায়নের ধাপ ও সময়সীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তীব্র নজরদারি থাকবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments