20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিগুগল ভারতের স্কুলে এআই শিক্ষার স্কেলিং পরীক্ষা করছে

গুগল ভারতের স্কুলে এআই শিক্ষার স্কেলিং পরীক্ষা করছে

গুগল এই সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই ফর লার্নিং ফোরামে জানিয়েছে যে, ভারতের স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার সরঞ্জামগুলোকে বৃহৎ পরিসরে চালু করার প্রাথমিক পরীক্ষা চলছে। গুগলের শিক্ষা বিভাগে উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করা ক্রিস ফিলিপসের মতে, দেশের বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং বৈচিত্র্যময় শিক্ষাব্যবস্থা এআই সমাধানের বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তি ক্লাসরুমে প্রবেশের গতি ত্বরান্বিত হওয়ায় গুগল, ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রতিযোগীরা ভারতের বাজারে নজর দিচ্ছে। গুগল উল্লেখ করেছে যে, এক বিলিয়নেরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীসহ দেশটি গেমিনি ভিত্তিক শিক্ষামূলক এআই সেবার সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ফোরামের সেশনগুলোতে গুগল শিক্ষাবিদ, K‑12 স্কুলের প্রধান এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে। এ আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এআই টুলগুলো কীভাবে দৈনন্দিন শিক্ষার কাজে সংযোজিত হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে তা বোঝা।

ভারতের সরকারী অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫‑২৬ অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ২৪.৭ কোটি শিক্ষার্থীকে ১৪.৭ লক্ষেরও বেশি স্কুলে সেবা প্রদান করে, যেখানে শিক্ষকসংখ্যা প্রায় ১.০১ কোটি। এই বিশাল পরিসর গুগলের জন্য এক ধরনের পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে, কারণ এআই সমাধানকে একসাথে সব স্কুলে প্রয়োগ করা কঠিন।

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত বিশাল আকারের। ২০২১‑২২ শিক্ষাবর্ষে ৪৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তি হয়েছিল, যা ২০১৪‑১৫ সালের তুলনায় ২৬.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দ্রুত বর্ধনশীল উচ্চশিক্ষা সেক্টরেও এআই টুলের প্রয়োগের চাহিদা বাড়ছে, তবে অবকাঠামো ও সংযোগের বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

ফিলিপসের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, একক, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত পণ্য হিসেবে এআই শিক্ষায় প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। ভারতের প্রতিটি রাজ্যের পাঠ্যক্রম স্বতন্ত্র, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ফলে গুগলকে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে হয়েছে যেখানে স্কুল ও প্রশাসকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই টুল ব্যবহার করতে পারে।

এই পদ্ধতি গুগলের পূর্বের গ্লোবাল স্কেলিং মডেলের থেকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। সাধারণত সিলিকন ভ্যালি কোম্পানিগুলো একবারের মতো পণ্য তৈরি করে বিশ্বব্যাপী রোলআউট করে, কিন্তু ভারতের বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গুগলকে স্থানীয়করণে বেশি জোর দিতে বাধ্য করেছে।

প্রতিযোগীদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটও এআই শিক্ষার ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে পণ্য ও সেবা বিকাশ করছে। তবে গুগল উল্লেখ করেছে যে, ভারতের ব্যবহারকারীরা গেমিনি-ভিত্তিক শিক্ষামূলক এআইকে সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করেছে, যা কোম্পানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার সুবিধা তৈরি করেছে।

গুগল এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্টেন্ট তৈরি, ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষণ পরিকল্পনা এবং রিয়েল-টাইম ফিডব্যাক প্রদানকারী এআই সমাধান প্রদান করছে। এসব টুলের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীর শেখার গতি বাড়ানো এবং শিক্ষককে প্রশাসনিক কাজ থেকে মুক্ত করা।

তবে এআই টুলের সফল বাস্তবায়নের জন্য ডিভাইসের প্রাপ্যতা, ইন্টারনেট সংযোগের গুণগত মান এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ফিলিপসের মতে, গুগল এখন স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করেছে, যাতে শিক্ষকরা এআই ব্যবহার করে শিক্ষার মান উন্নত করতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদে গুগল আশা করে যে, ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষাব্যবস্থায় এআই সমাধানের সফল পরীক্ষা ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে একই ধরনের মডেল গ্রহণে পথপ্রদর্শক হবে। এভাবে এআই কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং শিক্ষার সমতা ও গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

গুগলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল এআইকে শিক্ষার সঙ্গে সংহত করে স্কেলযোগ্য, নমনীয় এবং স্থানীয় চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান তৈরি করা। ভারতের বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং রাজ্যভিত্তিক পাঠ্যক্রমের বৈচিত্র্য গুগলকে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে, যা ভবিষ্যতে গ্লোবাল এআই শিক্ষার মানদণ্ডকে পুনর্গঠন করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments