আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৫টি কারাগারের মোট ৫,৯৬০ বন্দি পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করে ভোট দেবেন। ভোটার তালিকায় দণ্ডপ্রাপ্ত, হাজতি, নারী ও রাজনৈতিক কারাবন্দি অন্তর্ভুক্ত। ভোটের সময় ৩, ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের ভোটের ইচ্ছা জানাতে বলা হয়। এই আহ্বানের পর ৬,২০০ের বেশি বন্দি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে অ্যাপে নিবন্ধন করেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে শেষ পর্যন্ত ৫,৯৬০ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রতিটি নিবন্ধিত বন্দির জন্য আলাদা খামযুক্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা হয়। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও নওগাঁ জেলার কারাগারে ব্যালট পেপার পৌঁছেছে, এবং বাকি কারাগারগুলোতে শীঘ্রই বিতরণ করা হবে। ব্যালট পেপারটি ভোটারকে ভোটের দিন নিজস্ব খামে রেখে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও তার সহযোগী দলগুলোর বহু সাবেক এমপি-মনিষী কারাবন্দি অবস্থায় ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন, যাঁদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু প্রাক্তন নেতা কারাবন্দি অবস্থায় ভোটের অধিকার পেয়েছেন।
বন্দি ভোটারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিছু নারীও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নারী বন্দিদের সংখ্যা যদিও কম, তবে তাদের অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন উল্লেখ করেন, প্রস্তাবনা অনুযায়ী বন্দিদের ইচ্ছা অনুসারে অ্যাপে নিবন্ধন করা হয়েছে এবং পর্যালোচনার পর ৫,৯৬০ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ও নওগাঁ কারাগারে পৌঁছেছে।
সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল-ফারহাদ জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী মোট কারাবন্দির সংখ্যা প্রায় ৮৬,০০০, যার মধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৫,৯৬০ জন। সব কারাগারে ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পেপার পৌঁছানোর কাজ চলমান।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বন্দি ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটের ফলাফল যদি কারাবন্দি ভোটের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভবিষ্যতে বন্দি ভোটারদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সকল বন্দি তাদের ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করে, এবং ভোটের ফলাফল গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যতিক্রম না করে গণনা করা হবে। এই ব্যবস্থা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ভোটের শেষ দিন ৫ ফেব্রুয়ারি, এবং ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাবন্দি ভোটারদের অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে।



