ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভাইস‑প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম বৃহস্পতিবার সিলেটের চৌহাট্টা এলাকায় অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তৎপরতা প্রকাশ করে ‘না’ ভোটের দলকে কঠোর সতর্কতা জানালেন। এই সমাবেশটি পাঁচটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের’ আয়োজনের অংশ ছিল এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রেফারেন্ডামের প্রচারমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
কায়েমের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা একসাথে লড়াই করেছে, তারা এখন ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে চাচ্ছে, যা তিনি নিন্দা করেন। তিনি ‘না’ শব্দকে হাসিনা, মোদি এবং ভারতের দালালির সঙ্গে সমান করে তুলেছেন এবং বলছেন যে এই ধরনের অবস্থানকে তিনি স্বীকার করতে পারবেন না।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে তিনি পূর্বে হাসিনার সঙ্গে করা ‘ডিল’ এবং তাকে ভারতে পাঠানোর মতোই কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। এ জন্য তিনি সকল দলের স্পষ্ট অবস্থান চেয়ে আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, এখনো সময় আছে, তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সমাবেশটি ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের’ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় গণভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন সংগ্রহ করা হয়। এই সমাবেশে ছাত্রসংসদের ভিপি-রা একত্রিত হয়ে রেফারেন্ডামের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ‘না’ ভোটের বিরোধিতা করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রেফারেন্ডামটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে। কায়েমের মতে, জুলাই প্রজন্মের জন্য ফ্যাসিবাদী রাজনীতি এবং ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করা কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি এই রেফারেন্ডামের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে চান।
সিলেটের বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালানোর জন্য কায়েম বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে, যাতে রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের উন্নয়নে সহায়ক হয়।
এই সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি জিএস মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিলেট‑১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এ.এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীও সমাবেশে অংশ নেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানান।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ছাত্রসংসদের এই ধরনের সমাবেশ রেফারেন্ডামের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সাদিক কায়েমের কঠোর রেটোরিক এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার ভবিষ্যতে ছাত্রগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ‘না’ ভোটের দলও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে, যা রাজনৈতিক সমতা ও বিতর্ককে আরও তীব্র করবে।
সামগ্রিকভাবে, সিলেটের এই গণভোটে সাদিক কায়েমের বক্তব্য এবং অংশগ্রহণকারী নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রেফারেন্ডামের ফলাফলকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন গতিশীলতা তৈরি করবে।



