রায় গিগসকে ২০২০ সালে প্রিমিয়ার লীগ হল অফ ফেমের প্রথম সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। গিগস, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রেকর্ড উপস্থিতি ধারক, তখনই আলান শিয়াররের সঙ্গে প্রথম ইনডাক্টি হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবের কারণে মূল অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয় এবং পুনঃনির্ধারিত ২০২১ সালের অনুষ্ঠানে গিগসের পরিবর্তে থিয়েরি হেনরি অংশ নেন।
প্রাথমিকভাবে গিগসকে ২০২০ সালের হল অফ ফেমের সূচনাকারী সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, যা প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃক ঘোষিত হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পেছনে গিগসের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১৯৯১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৯৬৩টি উপস্থিতি, ১৬৮ গোল এবং ১৩টি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড ছিল। তবে মহামারির কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়ে যায় এবং পরবর্তী বছর পুনর্নির্ধারিত অনুষ্ঠানে গিগসের স্থান পরিবর্তন করা হয়।
গিগসের আইনগত সমস্যাগুলো ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশ পায়, যখন তাকে তার প্রাক্তন সঙ্গী কেট গ্রেভিলের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং তার বোনের ওপর আক্রমণের অভিযোগে দায়ী করা হয়। এই সময়ে গিগস ওয়েলসের জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগগুলো আদালতে আনা হয়, তবে গিগসের বিরুদ্ধে প্রমাণের ঘাটতি এবং তার প্রাক্তন সঙ্গীর সাক্ষ্য প্রত্যাহারের ফলে মামলাটি জটিল হয়ে ওঠে।
২০২৩ সালে ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিস (CPS) শেষমেশ গিগসের বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে। CPS জানায়, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় এবং বাকি আক্রমণ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো জনস্বার্থের বাইরে পড়ে যাওয়ায় মামলাটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তের পর গিগসের নাম পুনরায় স্পোর্টস জগতে স্বচ্ছতা পায় এবং তার পেশাগত সুনাম পুনরুদ্ধার হয়।
কেসের সমাপ্তির পর থেকে গিগসকে প্রিমিয়ার লীগের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি বাড়তে থাকে। বহু ফুটবল বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন খেলোয়াড় গিগসের অবদানের স্বীকৃতি দাবি করে, বিশেষ করে তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার এবং প্রিমিয়ার লীগে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ডকে উল্লেখ করে। তবে প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষের শেষ সিদ্ধান্তে গিগসের হল অফ ফেমের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গিগসের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের মধ্যে রয়েছে ৯৬৩টি উপস্থিতি, ১৬৮ গোল এবং ১৩টি প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা, যা তাকে লিগের সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ী খেলোয়াড়ের রেকর্ডে স্থাপন করে। তার এই অর্জনগুলোকে প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গিগসের অবদান শুধুমাত্র মাঠে সীমাবদ্ধ না থেকে, তিনি পরে ওয়েলসের কোচিং দায়িত্বে থেকেও দেশের ফুটবলে প্রভাব ফেলেছেন।
ডিসেম্বর মাসে গিগস হল অফ ফেমের বিষয়ে মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বলেন যে এই বিষয়টি তার জন্য বিশেষ কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি হয়, দারুণ; না হলে, আমি ঘুম হারাব না।” এই বক্তব্যটি গিগসের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যেখানে তিনি স্বীকৃতির জন্য অতিরিক্ত চাপ নিতে চান না।
প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃপক্ষের শেষ ঘোষণায় গিগসের হল অফ ফেমের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যদিও তার ক্যারিয়ারকে নিয়ে এখনও বিতর্ক চলমান। গিগসের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত করার জন্য কিছু ভক্ত এবং বিশ্লেষকের পক্ষে আবেদন অব্যাহত রয়েছে, তবে অফিসিয়াল সিদ্ধান্তে এখনো কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
সারসংক্ষেপে, রায় গিগসের হল অফ ফেমের আমন্ত্রণের ইতিহাসে একাধিক মোড় এসেছে: ২০২০ সালে আমন্ত্রণ, কোভিডের কারণে স্থগিত, ২০২১ সালে পরিবর্তন, এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের আইনি পরিষ্কার হওয়ার পরেও প্রিমিয়ার লীগ কর্তৃক আমন্ত্রণ প্রত্যাহার। গিগসের ক্যারিয়ার রেকর্ড এবং তার ব্যক্তিগত মন্তব্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়ে গেছে, তবে বর্তমান পর্যন্ত অফিসিয়াল অবস্থান অপরিবর্তিত।



