চট্টগ্রাম বিভাগের ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৯ বছর বয়সী কিশোর রাজু মিঞা (১৯) ২১ জানুয়ারি রাতে নিজের দোকানে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বাড়ি ছেড়ে যান। তার পর থেকে মোবাইল বন্ধ থাকায় পরিবার তাকে খুঁজতে শুরু করে। ২৬ জানুয়ারি সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বেয়ারিবাঁধ সংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিমে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে অর্ধগলিত দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃতের পিতামাতা ফটিকছড়ি থানায় হত্যার মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় একাধিক স্থান থেকে অনুসন্ধান চালানো হয়। এই অনুসন্ধানের ফলস্বরূপ কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানা, পাঁচথুবি এলাকায় মূল সন্দেহভাজন মো. ফিরোজ আহমেদ (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। ফিরোজের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ি থানায় তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। উভয় সন্দেহভাজনকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
ফিরোজের বাড়ি রাউজান উপজেলায়, তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন এবং তার স্ত্রী ফটিকছড়ির ধর্মপুর এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, ফিরোজের স্ত্রী ছোট বোনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরে তিনি প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সম্পর্কের ফলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং পরিকল্পনামূলকভাবে রাজুর স্বামী ভায়রা (ভায়রা নামের লোক)কে ডেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনায় ফিরোজের শাশুড়ি ফাতেমা বেগমও অংশ নেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২৮ জানুয়ারি বুধবার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উভয় সন্দেহভাজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে তারা হত্যার পরিকল্পনা, গৃহীত পদক্ষেপ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। আদালতের রায়ের পরপরই পুলিশ তাদের জেলখানায় স্থানান্তর করে।
মামলার তদন্তে স্থানীয় পুলিশ ও আইটি ইউনিটের সমন্বয় কাজের ফলে অপরাধের মূল চালিকাশক্তি ও সহায়ক ব্যক্তিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফটিকছড়ি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মৃতের পরিবার এখনো শোকাহত, তবে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছে। ফটিকছড়ি থানার কর্মকর্তারা জানান, হত্যার সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং মামলার পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সামাজিক মীমাংসা ও পারিবারিক বিরোধের সমাধানে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ানো হবে।
মামলার পরবর্তী আদালত তারিখ ও অতিরিক্ত তদন্তের তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক অনুসরণে আহ্বান জানানো হয়েছে।



