19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের নারী‑সম্মান ও পরিবার‑রাজনীতি বিরোধী বক্তব্য

জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের নারী‑সম্মান ও পরিবার‑রাজনীতি বিরোধী বক্তব্য

বৃহস্পতিবার, ঢাকা‑১৭ আসনের গুলশান‑বনানী‑বারিধারার অন্তর্ভুক্ত বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান নারী‑সম্মান ও পরিবার‑রাজনীতির বিরোধিতা করে তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক হাতে নারীদের কার্ড দিয়ে সম্মান দেখানো এবং অন্য হাতে তাদের গায়ে স্পর্শ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তার দল এমন আচরণকে ‘বরদাশত’ বলে শাস্তি দেবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল নারী‑সুরক্ষার প্রতি অবহেলা করা আচরণকে নিন্দা করা, যা তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এক হাতে কার্ড, আরেক হাতে গায়ে হাত—এ ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড আমরা সহ্য করব না।” এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির নীতি‑নির্দেশনা তুলে ধরেন, যেখানে পরিবার‑ভিত্তিক রাজনীতির বিরোধিতা এবং merit‑ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

রহমান উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় এলে দেশের যুবকদের বেকারত্ব ভাতা বদলে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রদান করা হবে। তদুপরি, তিনি ঘোষণা করেন যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নির্বাচিত সকল প্রতিনিধির আর্থিক হিসাব সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

রহমানের বক্তব্যের পাশাপাশি, সভায় ঢাকা‑১৭ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত প্রার্থী মো. এস এম খালিদুজ্জামানকে সমর্থন জানিয়ে শাপলা কলি প্রতীক উপস্থাপন করা হয়। একই সময়ে, ঢাকা‑১৮ আসনের এনসিএনপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের হাতে একই প্রতীক প্রদান করা হয়। উভয় প্রার্থীকে তিনি “যদি জয়লাভ করি, ভাই থেকে স্যার হওয়া নয়, কোনো গাঁজন‑গাঁজন বা চাঁদাবাজি না করা” বলে সতর্ক করেন।

শফিকুর রহমান অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি গত ১৭ মাসে কোনো সহিংসতা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি চালায়নি এবং এই নীতি ভবিষ্যতে বজায় রাখবে। তিনি জুলাই চুক্তি স্বাক্ষরের পরেও কিছু লোকের অবস্থান পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “অনেকেই এখন সংস্কারের বিরোধী দাবি করছেন, যদিও তারা স্বেচ্ছায় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিএনপি’র ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যিনি ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী। পাটওয়ারী সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এনসিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা তুলে ধরেছেন। এছাড়া, বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন, যদিও তার সরাসরি মন্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত নয়।

রহমানের ভাষণে উল্লেখযোগ্য যে, জামায়াত-এ-ইসলামি পরিবার‑তান্ত্রিক রাজনীতির বিরোধিতা করে এবং এমন কোনো ব্যবস্থা সমর্থন করে না যেখানে পরিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রাজনৈতিক পদে অধিকার অর্জন করা যায়। তিনি বলেন, “আমরা এমন রাজনীতি চাই না যেখানে পরিবার ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না।” এই নীতি তার দলের নির্বাচনী কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সভায় শাপলা কলি উপস্থাপনের পর, উপস্থিত সমর্থকরা দলীয় স্লোগান গাইতে থাকে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। শফিকুর রহমানের বক্তৃতা এবং প্রতীক প্রদান অনুষ্ঠান দুটোই জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের র‍্যালি ও বক্তৃতা দলকে ভোটারদের কাছে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং নারী‑সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে সহায়তা করবে। তবে, সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, এই নীতিগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং কীভাবে দলটি তার প্রতিশ্রুতি পালন করবে।

রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং এনসিএনপি উভয়ই ভোটারদের কাছে তাদের যৌথ লক্ষ্য—স্বচ্ছতা, merit‑ভিত্তিক উন্নয়ন এবং নারী‑সুরক্ষা—উল্লেখ করে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য তাদের সমর্থন ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে এই র‍্যালিগুলো কীভাবে ভোটের প্রবণতা প্রভাবিত করবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে নারী‑সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments