শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের থোরাসিক সার্জারির দল ৩৩ বছর বয়সী এক রোগীর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস অপসারণের পর কৃত্রিম ফুসফুস ব্যবহার করে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত জীবন রক্ষা করে, এরপর তাকে দাতা ফুসফুসের মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।
রোগীটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস শহরে বসবাস করতেন এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা বি সংক্রমণে আক্রান্ত হন। প্রথম সংক্রমণের পর তার শ্বাসযন্ত্রের অবস্থা দ্রুত অবনতি শুরু করে, ফলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে থাকা অবস্থায় রোগীর রক্তে পসুডোমোনাস এ্যারোজিনোসা নামে একটি ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়, যা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী ছিল। এই ব্যাকটেরিয়ার দ্বিগুণ সংক্রমণ রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ফুসফুসের টিস্যুকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফুসফুসের কার্যকরী টিস্যু সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, রোগীর অবস্থা এমন যে কোনো প্রচলিত যন্ত্রের মাধ্যমে সাময়িক সমর্থন যথেষ্ট নয়, এবং রোগী সক্রিয়ভাবে মৃত্যুর পথে অগ্রসর হচ্ছিল।
ফুসফুসের পুনরুদ্ধার অসম্ভব বলে নির্ণয় হওয়ার পর, দলটি রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস পুরোপুরি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। অপসারণের সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ফুসফুসের সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা রক্তকে অক্সিজেনায়িত করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণের কাজ করে, ঠিক প্রাকৃতিক ফুসফুসের মতো।
এই সিস্টেমে শান্ট, টিউব এবং পাম্পের সমন্বয় রয়েছে; রক্তকে ডান দিকের হৃদয় থেকে বের করে পাম্পের মাধ্যমে অক্সিজেন যোগ করা হয় এবং তারপর বাম দিকের হৃদয়ে ফিরে পাঠানো হয়। ফলে রক্তের প্রবাহে কোনো বাধা না রেখে হৃদয়ের কাজ বজায় থাকে এবং অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
প্রক্রিয়ার পর রোগীর রক্তের অক্সিজেন স্তর স্থিতিশীল হয় এবং শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা দল রোগীকে কৃত্রিম ফুসফুসের সঙ্গে দুই দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে, যাতে দাতা ফুসফুসের জন্য উপযুক্ত সময় নিশ্চিত করা যায়। এই সময়কালে রোগীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন এবং শ্বাসের হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৪৮ ঘন্টা পর, দাতা ফুসফুস পাওয়া গেলে রোগীর নতুন ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। অপারেশনের পরে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ফিরে আসে। রোগী কয়েক দিন পরই শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ পুনরায় শুরু করে এবং পুনর্বাসনের পথে অগ্রসর হয়।
এই সফল কেসটি দেখায় যে সম্পূর্ণ কৃত্রিম ফুসফুসের ব্যবহার রোগীর জীবনের শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষত যখন দাতা অঙ্গের অপেক্ষা করা হয়। গবেষণায় প্রকাশিত ফলাফল অনুসারে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও বেশি রোগীর জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
এ ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি রোগী ও পরিবারকে অতিরিক্ত সময় প্রদান করে, যা দাতা অঙ্গের সন্ধান ও প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা সংস্থাগুলোকে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ক্লিনিকাল প্রয়োগে আরও গবেষণা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জরুরি শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা মোকাবেলায় আরও বেশি জীবন রক্ষা করা যায়।



