বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে ২৩ মার্চকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতি বছর একই তারিখে ক্যাডেট সংস্থার প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উদযাপন করা হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য এই দিনটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধ জোরদার করার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা একমত হয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন, যা পূর্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক সভায় উপস্থাপিত হয়েছিল। সিদ্ধান্তের পেছনে ক্যাডেট সংস্থার শিক্ষামূলক ভূমিকা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বকে তুলে ধরার ইচ্ছা ছিল।
বৈঠকের স্থান ছিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার অফিস। অফিসের সম্মানজনক পরিবেশে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বৈঠকের সময়সূচি অনুযায়ী সকল সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল, ফলে সিদ্ধান্তের বৈধতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
বৈঠকের পর বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দিনটি ক্যাডেট সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাবকে আরও দৃশ্যমান করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় স্কুল ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিসেবে গঠন করা হয়। তখন থেকে সংস্থাটি দেশীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবেলা ও সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার তারিখটি ২৩ মার্চই হওয়ায় সরকার এই দিনটিকে ‘বিএনসিসি দিবস’ হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংস্থার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্মরণীয় করে তোলা হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ক্যাডেট কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হবে।
বিএনসিসি দিবসের উদযাপন পরিকল্পনায় স্কুল ও কলেজে বিশেষ অনুষ্ঠান, ক্যাডেট প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী এবং নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালার অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ জোরদার করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার ও সামরিক সংস্থার সমন্বয়ে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রেস সচিবের মতে, এই দিনটি তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত করার পাশাপাশি ক্যাডেট সংস্থার সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি বাড়াবে। ক্যাডেট প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে শারীরিক ফিটনেস, দলগত কাজ এবং নেতৃত্বের দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক।
শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে আমি লক্ষ্য করছি যে, এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অভিভাবকদের সমর্থনের ওপর। ক্যাডেট কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় সেবা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে।
আপনার বিদ্যালয়ে যদি এখনও ক্যাডেট ক্লাব না থাকে, তবে এই নতুন দিবসের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দল গঠন করার পরিকল্পনা করতে পারেন। ক্যাডেট প্রশিক্ষণকে আপনার শিক্ষার্থীদের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে গ্রহণ করলে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



