যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারীরা আগামী মাস থেকে চীনে এক মাসের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি পাবে। এই ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার চীন রাজধানী বেইজিং‑এ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে জানানো হয়। ভিসা‑মুক্ত ভ্রমণটি ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক আদান‑প্রদানের জন্য স্বল্পমেয়াদী সফরের সুযোগ দেবে।
কিয়ার স্টারমার বেইজিং‑এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় চীনের বৃহৎ বাজারে সহজে প্রবেশের দাবি করে আসছে এবং সরকার এই চাহিদা পূরণের জন্য ভিসা শর্ত শিথিল করবে। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণ সহজ হলে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
চীনে ভিসা‑মুক্ত প্রবেশের এই নতুন নীতি ইতিমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ প্রায় পঞ্চাশটি দেশের সঙ্গে কার্যকর হয়েছে। এই দেশগুলোর নাগরিকরা সর্বোচ্চ ত্রিশ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই চীনের মূল ভূখণ্ডে থাকতে পারেন। যুক্তরাজ্য এখন এই তালিকায় যুক্ত হয়ে চীন‑যুক্তরাজ্য ভ্রমণকে আরও সহজতর করবে। বর্তমানে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের চীনে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন, তাই এই পরিবর্তন দু’দেশের সম্পর্কের নতুন পর্যায় সূচিত করবে।
ব্রিটিশ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে চীনের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখছে। ভিসা‑মুক্ত সুবিধা পর্যটন শিল্পের চাহিদা বাড়াবে, পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্যও সুবিধা দেবে। সরকার এই নীতির মাধ্যমে বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর তিন দিনের ছিল, যেখানে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আলোচনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক পরিষেবায় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, এবং বাণিজ্যিক শর্ত সহজতর করার সম্ভাবনা নিয়ে সমঝোতা হয়। এছাড়া পণ্য, পরিষেবা ও প্রযুক্তি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে মেনে চলছে কিনা তা যাচাই করার জন্য কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্টে সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।
এই সফরটি ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পূর্বে দুই দশক আগে রিচার্ড নিক্সন এবং থমাস ডি’আলবের্টো-সান্সের মতো নেতারা চীন ভ্রমণ করলেও, কিয়ার স্টারমার এই সফরটি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পুনরায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই সফরটি পরিকল্পিত হয়েছিল।
স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষই দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষত কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে উভয় দেশই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে, যা রপ্তানি‑ইম্পোর্ট প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে। এছাড়া অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন রোধে তথ্য শেয়ারিং এবং সমন্বিত অপারেশন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ভিসা‑মুক্ত নীতি এবং নতুন চুক্তিগুলি যুক্তরাজ্যের চীন‑বাজারে প্রবেশের বাধা কমিয়ে ব্যবসায়িক সুযোগ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। সরকার এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রাখে।



