হন্ডা এবং ড্রাইভওহাইও ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন (ODOT) এর স্মার্ট মোবিলিটি হাবের সঙ্গে একত্রে একটি রোড সেফটি পাইলট চালু করেছে। এই প্রকল্পে হন্ডার গাড়িগুলোকে উন্নত ভিশন ও লিডার (LiDAR) সেন্সর দিয়ে সজ্জিত করে রিয়েল‑টাইমে সড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেন্সরগুলো সাইনবোর্ডের ক্ষয়, বাধা, গার্ডরেল ক্ষতি, পিচ্ছিল রাস্তা এবং নতুন গর্তের মতো সমস্যাগুলো সনাক্ত করতে সক্ষম।
পাইলটটি ওহাইওর কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৩,০০০ মাইল রোডে চালানো হয়। পরীক্ষার সময় গাড়িগুলো শহুরে ও গ্রামীণ উভয় পরিবেশে, বিভিন্ন আবহাওয়া ও দিনের বিভিন্ন সময়ে চালানো হয়। ODOT-এর অপারেটররা হন্ডা ও পার্সন্সের তৈরি স্মার্ট ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ সনাক্তকৃত সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারত।
সেন্সর সংযোজন ও ড্যামেজ ডিটেকশন ফিচার বিকাশে ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি গাড়িতে সেন্সর বসানো, ক্ষতি সনাক্তকরণ অ্যালগরিদম তৈরি এবং পাইলট চলাকালীন ODOT-কে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে। সংগ্রহ করা ডেটা এজ এআই মডেল দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হয় এবং হন্ডার ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়।
ক্লাউডে ডেটা বিশ্লেষণ শেষে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ টিমের জন্য কাজের অর্ডার তৈরি করে, এবং তা অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজিয়ে দেয়। পাইলটের ফলাফল দেখায় যে সাইনবোর্ডের ক্ষতি সনাক্তকরণে সিস্টেমের নির্ভুলতা ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে, গার্ডরেল ক্ষতিতে ৯৩ শতাংশ এবং পিচ্ছিল গর্তে ৮৯ শতাংশ। এছাড়া উচ্চ-গুরুত্বের শোল্ডার ড্রপ‑অফ সনাক্তকরণ এবং রাস্তার রাফনেস মাপার ক্ষেত্রেও সিস্টেমটি নির্ভরযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে।
প্রকল্পের দল অনুমান করে যে, যদি এই স্বয়ংক্রিয় রোড মেইনটেন্যান্স সিস্টেমটি বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগ করা হয়, তবে ODOT প্রতি বছর প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি সঞ্চয় করতে পারে। সড়কের ক্ষতি দ্রুত শনাক্ত করে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা ফলে দীর্ঘমেয়াদে রোডের গুণগত মান ও নিরাপত্তা উভয়ই উন্নত হবে।
হন্ডা এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্য ও দেশের রোড নেটওয়ার্কে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। লিডার ও ভিশন সেন্সরের সমন্বয়, এজ এআই বিশ্লেষণ এবং ক্লাউড‑ভিত্তিক ওয়ার্কফ্লো একত্রে রোড রক্ষণাবেক্ষণের পদ্ধতিকে ডিজিটাল করে তুলছে। ফলে রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সমস্যাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, যা গাড়ি চালকদের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাবে।
এই পাইলটের সাফল্য দেখিয়ে দেয় যে, স্বয়ংচালিত গাড়ি ও সংযুক্ত সেন্সর প্রযুক্তি কেবল গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নয়, বরং জনসাধারণের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে হন্ডা ও ড্রাইভওহাইওর মতো পার্টনারশিপের মাধ্যমে আরও বেশি শহরে রিয়েল‑টাইম রোড মনিটরিং সিস্টেম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে।



