বাংলাদেশ শিপিং বিভাগ আগামীকাল চট্টগ্রামের বাংলাদেশ জল পরিবহন সমন্বয় কেন্দ্র (বিডব্লিউটিসিসি) অফিসে ‘জাহাজি’ নামের একটি উন্নত সফটওয়্যার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সিস্টেমটি হালার (লাইটার) জাহাজের সময়সূচি, রুট এবং কার্গো ডিশচার্জ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে বহির্গমন নোঙরস্থলে চলমান কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ দূর করা যায়।
সফটওয়্যারটির উদ্বোধন শিপিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও জাহাজ পরিদর্শক মির্জা সাইফুর রহমানের হাতে হবে। তিনি আগামীকালই বিডব্লিউটিসিসি অফিসে সফটওয়্যারের কার্যপ্রণালী প্রদর্শন করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করবেন।
বিভাগের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী সফটওয়্যারটি চালু হওয়ার পর হালার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে জাহাজের চলাচল ও কার্গো তথ্যের রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে।
বারী জানান, হালার জাহাজগুলোকে প্রায়ই কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করার জন্য ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং বর্তমানে কোন জাহাজে কী ধরনের পণ্য রয়েছে বা তার অবস্থান কোথায়, তা জানা কঠিন। এই ঘাটতি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
‘জাহাজি’ সফটওয়্যার চালু হলে নির্দিষ্ট রুটে কতটি জাহাজ চলাচল করছে, প্রতিটি জাহাজে কী ধরণের কার্গো রয়েছে এবং সেগুলোর সঠিক অবস্থান কী, তা সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করবে। ফলে অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্তের বদলে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য বন্দরগুলোর বহির্গমন নোঙরে হালার জাহাজের সময়সূচি নির্ধারণে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগগুলোকে সমাধান করার জন্যই সফটওয়্যারটি বিকাশ করা হয়েছে।
বছরের পর বছর পর্যন্ত হালার পরিচালনা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালিত হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাগজপত্রের হস্তলিখিত আবেদন, একাধিক অফিসে শারীরিক উপস্থিতি ইত্যাদি প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ত্রুটিপ্রবণ ছিল।
২০২৪ সালের কার্গো ট্রান্সপোর্ট নীতি অনুযায়ী, শিপিং বিভাগ এই সফটওয়্যারকে সিস্টেমের আধুনিকায়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নীতি অনুসারে ডিজিটালাইজেশন ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিংকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সেবা মান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
বিডব্লিউটিসিসি প্রতিনিধির মতে, বর্তমানে কিছু জাহাজ মালিক ব্যক্তিগতভাবে অনুরূপ সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, তবে এখন থেকে সব মালিককে এই সিস্টেমটি ব্যবহার করতে বাধ্য করা হবে। এভাবে তথ্যের একককেন্দ্রিক সংরক্ষণ ও শেয়ারিং নিশ্চিত হবে।
সফটওয়্যারটি মূলত একটি ট্র্যাকিং ডিভাইসের মতো কাজ করবে; কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় জাহাজের বর্তমান অবস্থান জানবে। এই রিয়েল‑টাইম ডেটা নিরাপত্তা, লোডিং পরিকল্পনা এবং বাজারের সরবরাহ চাহিদা সমন্বয়ে সহায়তা করবে।
বর্তমানে ডিশচার্জ সিরিয়াল পেতে হালার কর্মীদের একাধিক সরকারি অফিসে গিয়ে হাতে লিখিত আবেদন জমা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময়ের অতিব্যয় এবং অনিয়মের ঝুঁকি থাকে। সফটওয়্যারটি এই ধাপগুলোকে ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তরিত করে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা প্রদান করবে।
ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন, অনুমোদন ও ট্র্যাকিং একত্রে পরিচালিত হবে, ফলে কাগজপত্রের প্রয়োজন কমে যাবে এবং তথ্যের সঠিকতা বাড়বে। শিপিং বিভাগ আশা করে, ‘জাহাজি’ চালু হওয়ার পর হালার জাহাজের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত হবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তি দেশের সামগ্রিক লজিস্টিক্স সেক্টরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। রিয়েল‑টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে বাজারের চাহিদা পূর্বাভাস, পণ্যের সরবরাহ চেইন অপ্টিমাইজেশন এবং বাণিজ্যিক বিরোধ কমানো সম্ভব হবে।



