ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সম্প্রতি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (IRGC)কে সন্ত্রাসী সংস্থার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সিদ্ধান্তটি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক সপ্তাহে প্রতিবাদকারীদের ওপর মারাত্মক দমনমূলক কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। EU-র পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে এই পদক্ষেপকে “নির্ধারিত পদক্ষেপ” বলা হয়েছে।
EU-র শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাস উল্লেখ করেন, দমনমূলক নীতি কোনো উত্তর ছাড়তে পারে না, তাই এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য। তিনি আরও জানান, IRGC-কে এখন আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জিহাদী গোষ্ঠীর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই সমান স্তরায়ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির কঠোরতা প্রকাশ করে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর (যার মধ্যে IRGC অন্তর্ভুক্ত) দ্বারা হাজারো প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে এবং দমনমূলক কার্যক্রমের তীব্রতাকে তুলে ধরে।
ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোত এই দমনকে ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে হিংসাত্মক দমন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অপরাধের জন্য কোনো দায়িত্বমুক্তি স্বীকার করা যাবে না।
ফ্রান্স পূর্বে IRGC-কে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, কারণ তা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে বুধবার ইতালির নেতৃত্বে গৃহীত উদ্যোগের পর ফ্রান্সের অবস্থান পরিবর্তিত হয় এবং তারা দৃঢ়ভাবে এই তালিকায় যুক্ত করার পক্ষে সরে আসে।
কাজা কাল্লাস আরও মন্তব্য করেন, “যে কোনো শাসনযন্ত্র যদি নিজের জনগণকে হাজারো প্রাণ হারায়, তা নিজের পতনের দিকে এগিয়ে যায়।” এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা ও সতর্কতা প্রকাশ করে।
সেইসাথে তিনি আশ্বাস দেন, সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার পরও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের দরজা বন্ধ হবে না। EU-র লক্ষ্য হল দমনমূলক নীতি পরিবর্তন করা, না যে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা ঘটানো।
সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত সংস্থাগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ এবং আর্থিক লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এই ব্যবস্থা গার্ডের আন্তর্জাতিক সমর্থন নেটওয়ার্ককে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
EU এছাড়াও ছয়টি সংস্থা ও পনেরোজন ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি, প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াহেদি আজাদ এবং বিচারক ইমান আফশারি অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এরা সকলেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন ও রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকার রক্ষকদের স্বেচ্ছাচারী গ্রেফতারে জড়িত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশও একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সমন্বিত আন্তর্জাতিক চাপ ইরানের নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে।



