20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধময়মনসিংহ সেন্ট্রাল জেলে তিনজন হত্যার সন্দেহভাজন ভুলবশত মুক্তি পেয়েছেন

ময়মনসিংহ সেন্ট্রাল জেলে তিনজন হত্যার সন্দেহভাজন ভুলবশত মুক্তি পেয়েছেন

ময়মনসিংহ সেন্ট্রাল জেলে তিনজন হত্যার সন্দেহভাজন ভুলবশত মুক্তি পেয়েছেন, যা কোনো জামিন আদেশ ছাড়াই ঘটেছে। সন্দেহভাজনরা হলেন মি. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম এবং জাকিরুল ইসলাম, যারা ত্রাকান্দা থানা থেকে দাখিল করা এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৩ জানুয়ারি আদালত থেকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেল কর্তৃপক্ষ একটি উৎপাদন ওয়ারেন্টকে জামিন আদেশ হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে, ফলে তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ভুলের ফলে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB-14)কে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ সেন্ট্রাল জেলের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট মি. আমিনুল ইসলাম জানান, মুক্তি একটি ভুল ছিল এবং ঘটনার বিশদ তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও র‌্যাব ইউনিট ইতিমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তি পাওয়া তিনজনকে পুনরায় জেলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগের কারাবাসের ডিপি.আই.জি. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, এই তিনজনকে ২৩ জানুয়ারি আদালত থেকে ত্রাকান্দা থানা সংশ্লিষ্ট মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, উৎপাদন ওয়ারেন্টকে জামিন আদেশ হিসেবে ভুলভাবে গ্রহণ করা এই ঘটনার মূল কারণ। এই ত্রুটির জন্য জেল বিভাগের একজন ডেপুটি জেলার, জাকারিয়া ইমতিয়াজকে স্থগিত করা হয়েছে।

ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজের মতে, মুক্তি ঘটার পেছনে যথাযথ সতর্কতার অভাব ছিল। তৌহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য আজই তিনজন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

তদন্ত কমিটির দায়িত্বের মধ্যে উৎপাদন ওয়ারেন্টের প্রক্রিয়া, জেল কর্মীদের কাজের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ত্রুটি বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কমিটি রিপোর্টে উল্লেখিত ফলাফলের ভিত্তিতে জেল ব্যবস্থাপনা ও আদালত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশও করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

বর্তমানে পুলিশ ও র‌্যাব-১৪ দল দ্রুত তিনজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে পুনরায় জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার ফলে জেল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।

মামলাটি ত্রাকান্দা থানার অধীনে দাখিল করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুক্তি পাওয়া সন্দেহভাজনদের পুনরায় গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় জেল ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ত্রুটি প্রকাশ পেয়েছে, যা সংশোধনের জন্য ত্বরান্বিত সংস্কার প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জেল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে একই রকম ভুল না হয় তা নিশ্চিত করতে নীতিগত পরিবর্তন ও প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন করা হবে।

স্থানীয় মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জেল ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ পেয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, উৎপাদন ওয়ারেন্ট এবং জামিন আদেশের পার্থক্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না হলে এ ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তাই আইনগত প্রক্রিয়ার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments