চীন সরকার ব্রিটেনের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া চীনে ভ্রমণ করার অনুমতি দিয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের তথ্য অনুযায়ী। এই সিদ্ধান্ত শি জিনপিং ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Sir Keir Starmer এর বেইজিং সাক্ষাতের পর প্রকাশিত হয়, যেখানে Sir Keir আট বছর পর চীনে প্রথম ব্রিটিশ নেতার সফর সম্পন্ন করেন।
ভিসা-মুক্ত ব্যবস্থা কখন কার্যকর হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে সরকার দ্রুত বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। অনুমোদন পেলে ব্রিটিশ পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে প্রায় ৬২০,০০০ ব্রিটিশ নাগরিক চীনে ভ্রমণ করেছে; নতুন নীতি এই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশাল সংখ্যক ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তন থেকে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যকে প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে সমান স্তরে নিয়ে যাবে, যার মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলো ইতিমধ্যে একই রকম ভিসা-ছাড়ের সুবিধা প্রদান করে আসছে।
Sir Keir উল্লেখ করেন, চীনের মতো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে ব্যবসা সম্প্রসারণের চাহিদা বাড়ছে এবং ভিসা শর্ত সহজ করা এই প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের জন্য ভিসা শিথিল করা ব্যবসায়িক সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে কিছু বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, চীনের মানবাধিকার রেকর্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুক্তরাজ্যের চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা উচিত। এই মতামতগুলো সরকারকে নীতি নির্ধারণে অতিরিক্ত বিবেচনা করতে বলছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাজ্য চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করতে চায়, বিশেষ করে সেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, উভয় দেশ সেবা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে, যা যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পষ্ট ও আইনি বাধ্যতামূলক নিয়ম স্থাপন করবে।
যুক্তরাজ্য বিশ্বে সেবা রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, যার মধ্যে আর্থিক, স্বাস্থ্য ও আইনি সেবা অন্তর্ভুক্ত। চীনের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সেবা চুক্তি চীনের বাজারে যুক্তরাজ্যের পেশাদার যোগ্যতা স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করবে।
চীন সরকার ও যুক্তরাজ্য উভয়ই এই আলোচনাকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে, তবে চূড়ান্ত চুক্তির সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট শর্তাবলী ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবে।



