বিএনপি চেয়ারপার্সন তরেক রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভার সময় পূর্ববর্তী সরকারের মেগা প্রকল্পকে দুর্নীতির শিকড় বলে সমালোচনা করেন। তিনি ১৬ বছর ধরে তার এলাকার কোনো উন্নয়ন না হওয়া, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির স্থবিরতা এবং গ্রামবাসীর জীবনমানের অবনতি তুলে ধরে, কেন এই পরিস্থিতি বদলাতে পার্টি কী পরিকল্পনা করেছে তা জানালেন।
তরেকের মতে, গত এক দশক থেকে একাধিক শহরে বড় ফ্লাইওভার ও দালান গড়ে উঠলেও সেগুলো মেগা প্রকল্পের নামে কেবলমাত্র দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি” এবং এ ধরনের নীতি গ্রাম ও উপজেলায় কোনো বাস্তব উন্নতি নিয়ে আসেনি।
বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল গ্রাম, জেলা ও উপজেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। তরেক বললেন, “আমরা গ্রামবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে চাই, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে”। তিনি বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার কথা জোর দিয়ে বললেন।
স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে তিনি নওগাঁ জেলায় চিকিৎসা সেবার অভাবের কথা উল্লেখ করেন। নিজে ১৭ বছর দেশে না থাকায় ফিরে এসে দেখেছেন, রোগীর জন্য যথাযথ সুবিধা না থাকায় মানুষ কষ্টে আছে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের দাবি তোলেন।
নারী ও যুবকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তরেকের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা। তিনি বলেন, “বেকার যুবক ও নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা আমাদের অগ্রাধিকার” এবং এ জন্য স্থানীয় শিল্প ও সেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চাইবেন।
নিরাপত্তা বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান যেখানে মানুষ রাতের বেলা নিরাপদে ঘরে বিশ্রাম নিতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাচ্ছন্দ্যে চালাতে পারে এবং রাস্তায় চলাচল করতে কোনো ভয় না থাকে।
তরেকের বক্তব্যের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পূর্ববর্তী ঋণমোচনের নীতি উল্লেখ করা হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়া সরকার ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিল। এরপর তিনি ঘোষণা করেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন হয়, তবে বর্তমান সময়ে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ, সুদসহ, সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে।
এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য তিনি সব কৃষককে একটি বিশেষ কার্ড প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে তারা ঋণমোচনের সুবিধা পেতে পারে। যদিও বিস্তারিত শর্তাবলি প্রকাশ না করা হলেও, লক্ষ্য হল কৃষক সম্প্রদায়ের আর্থিক বোঝা হ্রাস করা।
তরেকের বক্তৃতা শেষের দিকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পার্টি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল ও ব্যবসা করতে পারে”।
বিএনপি এই র্যালি মাধ্যমে গ্রামোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, নারী ও যুবক কর্মসংস্থান, এবং কৃষক ঋণমোচনের মতো মূল বিষয়গুলোকে নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই ঘোষণাগুলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
অবশ্যই, আওয়ামী লীগ সরকারও এই সময়ে তাদের উন্নয়নমূলক কাজের ফলাফল তুলে ধরবে এবং মেগা প্রকল্পের সাফল্যকে সমর্থন করবে। দুই প্রধান পার্টির মধ্যে এই ধরনের পারস্পরিক সমালোচনা ও প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলবে।
পরবর্তী ধাপে, বিএনপি তার নীতি প্রস্তাবগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে এবং ভোটারদের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে কীভাবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ নেবে। একই সঙ্গে, সরকারী পক্ষের কাছ থেকে মেগা প্রকল্পের প্রকৃত অবদান ও ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করা হবে।



