ঢাকা শহরের সুহরাওয়ার্ডি উদ্যানে ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল জামায়াত-এ-ইসলামির নারী র্যালি, তবে পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ আজ সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে র্যালি স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত নারী র্যালি স্থগিত করা হচ্ছে; পরবর্তী সিদ্ধান্ত ইন শা আল্লাহ জানানো হবে।”
র্যালির পরিকল্পনা প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েব-এ-আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাহের র্যালির উদ্দেশ্যকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের ওপর করা হামলা, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সুহরাওয়ার্ডি উদ্যান, যা স্বাধীনতার সংগ্রামের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত, রাজনৈতিক সমাবেশের ঐতিহাসিক স্থান। র্যালি এখানে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে নারী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা যায়। তবে পার্টি এখনো স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, শুধুমাত্র তা অনিবার্য বলে উল্লেখ করেছে।
র্যালি স্থগিতের পর জামায়াত-এ-ইসলামির কিছু স্থানীয় শাখা ও সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা র্যালি পুনরায় নির্ধারণের প্রত্যাশা জানায়। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি, যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পার্টির নারী কর্মীদের উপর চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে। র্যালি মূলত নারীদের মুখোমুখি হিংসা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল; স্থগিতের ফলে এই বিষয়টি কীভাবে অগ্রসর হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
পূর্বে জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে আসছে। এই অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে র্যালি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। তবে স্থগিতের পর পার্টি কীভাবে এই দাবিগুলোকে সামনে রাখবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, র্যালি স্থগিতের পেছনে রাজনৈতিক ক্যালেন্ডার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বা পার্টির অভ্যন্তরীণ কৌশলগত পুনর্মূল্যায়ন থাকতে পারে। তবে পার্টি থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় অনুমানই বাকি।
র্যালি পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে পার্টি ভবিষ্যতে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে পার্টি উল্লেখ করেছে যে সিদ্ধান্ত ইন শা আল্লাহ শীঘ্রই জানানো হবে।
র্যালি স্থগিতের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির নারী কর্মীরা কীভাবে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য অন্য কোনো উপায় বেছে নেবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। র্যালি না হলে অন্য কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, র্যালি স্থগিতের সিদ্ধান্ত পার্টির রাজনৈতিক কৌশল ও নারী কর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই বিষয়টি বিকাশ পাবে, তা নির্ভর করবে পার্টি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পার্টি ও তার সমর্থকরা র্যালি পুনরায় নির্ধারণের আশায় রয়েছেন। সরকারী দিক থেকে কোনো মন্তব্য না থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
রিপোর্টাররা জানাচ্ছেন, র্যালি স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় অফিসে কিছু আলোচনা চলছে, যেখানে র্যালির পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা ও সময়সূচি নিয়ে deliberation চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
এই র্যালি স্থগিতের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। পার্টি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং নারীদের জন্য কোন নতুন উদ্যোগ নেবে, তা সময়ই বলবে।



