হলিউডের নতুন মুখ ওডেসা এ’জিয়ন, যিনি “I Love LA” এবং “Marty Supreme”‑এ দেখা গেছেন, তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় দু’টি বড় প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত। প্রথমবারের মতো তিনি এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ “Euphoria”‑এর কাস্টে যোগদানের জন্য অডিশন দেন, যেখানে কাস্টিং ডিরেক্টর জেনিফার ভেন্ডিটি তাকে নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে রাখেন। অডিশনের পর তিনি স্যাম লেভিনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পুরো কাস্টের সঙ্গে টেবিল রিডে অংশ নিতে বলা হয়, যা তার জন্য গম্ভীর সুযোগের ইঙ্গিত দেয়।
কিন্তু কোভিড‑১৯ মহামারির কারণে শুটিং থেমে যায়, এবং সিরিজের উৎপাদন পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ’জিয়ন আর কোনো আপডেট পান না। শেষ পর্যন্ত সেই ভূমিকা অন্য অভিনেত্রীর হাতে চলে যায়, এবং এ’জিয়ন নিজে এই সুযোগ হারানোর দায় নিজেই নেন, কারণ তিনি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে মনে করেন।
অডিশনের পরের সময়ে এ’জিয়ন সাধারণ জীবনে ফিরে যান; তিনি ঢিলা জিন্সে আরামদায়ক ঘরে তিনজন রুমমেট এবং সাতটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে বাস করেন। যদিও তিনি স্ক্রিনে উজ্জ্বল চরিত্রে অভিনয় করেন, তার বাস্তব জীবন এখনও সাধারণ রুটিনে গঠিত।
চার বছর পরে, জোশ সাফডি তার প্রথম একক ফিচার “Marty Supreme” গড়তে শুরু করেন, যা তার দীর্ঘদিনের ভাই বেনি সাফডির সঙ্গে সৃষ্টিকর্মের শেষ পর্বের পরের পদক্ষেপ। সাফডি টিমোথি চ্যালামেটের সঙ্গে জোড়া হয়ে কাজ করার জন্য এমন একজন অভিনেত্রী খুঁজছিলেন, যিনি চরিত্রে শৈশবের চঞ্চলতা, তৃষ্ণা এবং ফিভেল মাউসকেভিটজের মতো উচ্ছ্বাস আনতে পারেন।
সাফডি এমন কোনো পরিচিত মুখ না থাকা, স্বাভাবিক এবং কোনো অতিরিক্ত ব্যাগেজ না থাকা অভিনেত্রীকে পছন্দ করতেন, যাতে দর্শক চরিত্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আবার জেনিফার ভেন্ডিটি এবং স্যাম লেভিনসনের সঙ্গে পরামর্শ করেন, যাঁরা পূর্বে এ’জিয়নের অডিশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
ভেন্ডিটির সুপারিশে এ’জিয়নকে “Marty Supreme”‑এর প্রধান ভূমিকায় বিবেচনা করা হয়, যেখানে তিনি টিমোথি চ্যালামেটের সঙ্গে সমবয়সী চরিত্রে অভিনয় করবেন। সাফডি তার অভিনয়শৈলীতে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং উন্মুক্ততা খুঁজছিলেন, যা এ’জিয়নের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ফিল্মের প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে এ’জিয়নকে টেবিল রিডে অংশ নিতে বলা হয়, যা তার পূর্বের “Euphoria” অভিজ্ঞতার স্মরণীয় মুহূর্তকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে। তবে এবার কোভিড‑১৯ সীমাবদ্ধতা আর নেই, তাই শুটিং পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে।
“Marty Supreme”‑এর গল্পটি তরুণদের স্বপ্ন এবং সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে, এবং এ’জিয়নের চরিত্রে তিনি সেই থিমকে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করবেন। চলচ্চিত্রটি সাফডির পূর্বের কাজের মতোই তীব্রতা এবং আবেগপূর্ণ দৃশ্যের জন্য প্রত্যাশিত।
এ’জিয়ন এই সুযোগকে তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন শিখরে পৌঁছানোর সেতু হিসেবে দেখছেন। তিনি অতীতের অডিশন থেকে শিখে এখন আরও সক্রিয়ভাবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সফল অডিশন এবং পুনরায় সুযোগের মাধ্যমে এ’জিয়ন এখন হলিউডের উত্থানশীল তরুণ অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। তার কাজের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে, এবং শিল্পের অভ্যন্তরে তার নাম দ্রুত পরিচিতি অর্জন করছে।
এইসব ঘটনার পরেও এ’জিয়ন তার ব্যক্তিগত জীবনকে সমানভাবে গুরুত্ব দেন; তিনি ঘরে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং পোষা প্রাণীদের যত্ন নিতে পছন্দ করেন, যা তার সৃজনশীল শক্তিকে সমর্থন করে।
সামগ্রিকভাবে, অডিশনের ব্যর্থতা থেকে শুরু করে নতুন ফিচারে প্রধান ভূমিকা পাওয়া পর্যন্ত এ’জিয়নের যাত্রা হলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ। তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে আরও বড় সাফল্য প্রত্যাশিত।
শিল্পের অভ্যন্তরে এ’জিয়নের উত্থান এবং তার কাজের গুণমানের ওপর ভিত্তি করে, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে তিনি শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবেন। তার ক্যারিয়ার গতি বজায় রাখতে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত।



