20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইলেকশন কমিশন সরকারী কর্মচারীর গণভোট প্রচারকে অপরাধ ঘোষণা

ইলেকশন কমিশন সরকারী কর্মচারীর গণভোট প্রচারকে অপরাধ ঘোষণা

ইলেকশন কমিশনের (ইসি) উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন ২৯ জানুয়ারি তারিখে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে একটি চিঠি প্রেরণ করে জানিয়েছেন যে, গণভোটের সময় কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের পক্ষে আহ্বান জানায়, তা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তারা সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইসি এই চিঠি স্বাক্ষর করে সরকারী কর্মচারীর গণভোটে অংশগ্রহণের সীমা স্পষ্ট করেছেন।

আইনি ভিত্তি হিসেবে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় বিধানই সরকারী পদমর্যাদার অপব্যবহার করে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার প্রচেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং শাস্তি নির্ধারণ করে।

গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা স্পষ্ট করে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রযোজ্য নির্বাচনী আচরণবিধি ও অপরাধবিধি একইভাবে গণভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে, কোনো সরকারি কর্মচারীর ভোটারকে নির্দিষ্ট দিকের পক্ষে প্ররোচিত করা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের সমতুল্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে বিচার হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারী কর্মচারী তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, তবে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। এই শাস্তি ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য নির্ধারিত।

এই নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের উপরও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের গুরুত্ব ও প্রভাব বাড়ছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালু করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এই প্রচারে অংশগ্রহণ করছে। সরকারী কর্মচারীদের এই প্রচারে যুক্ত হওয়া ইসির সতর্কবার্তার সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করে।

ইসি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা সকল প্রকার সরকারী কর্মচারীর ভোটারকে নির্দিষ্ট দিকের পক্ষে প্ররোচিত করার কোনো প্রচেষ্টা দ্রুত সনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করবেন এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য গণভোটের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, যদি কোনো সরকারী কর্মচারী এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তা শুধু আইনি শাস্তি নয়, গণভোটের ফলাফলের বৈধতায়ও প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই ইসির এই সতর্কতা রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments