বৃহস্পতিবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানালেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এবং ওসি নাজমুল হাসানকে তৎক্ষণাৎ পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের সময় জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু ঘটেছে। সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির কর্মীদের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি হওয়ার পর রেজাউল করিমের প্রাণ ত্যাগের খবর প্রকাশ পায়।
বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে চেয়ার বসে থাকা অবস্থায় বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কের পর এক পর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন, আর অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর ওপরও আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়।
আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, শেরপুরে নির্বাচনী প্রচার-সংক্রান্ত এই ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, কমিশন ঘটনাটির প্রতিবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তবে তৎক্ষণাৎ প্রশাসনিক দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য ইউএনও এবং ওসির পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের মতে, নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের সময় সংঘটিত হিংসা নির্বাচনী পরিবেশের শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে এবং তা নির্বাচনী কোডের বিরোধী। আখতার আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানালেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আজ সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তবে কমিশন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি; রিটার্নিং অফিসার ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
কমিশন নিয়মিতভাবে মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গণমাধ্যমকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে জানানো হয়েছে যে, ঝিনাইগাতীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে এখনো পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে সরে আসতে হবে। তাকে আজকের মধ্যে পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়েছে; না হলে আগামীকাল শুক্রবার তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
আশরাফুল আলমকে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পুনর্বিন্যাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তা তার পদত্যাগের শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে শেরপুরের নির্বাচনী পরিবেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধে একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির উভয় পক্ষই ঘটনাটির ওপর নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। উভয় দলই দাবি করে যে, নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ।
নির্বাচন কমিশন এখনো রিটার্নিং অফিসার ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক দায়িত্বে ব্যর্থতা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে ইউএনও ও ওসির পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে কমিশন একটি কঠোর সতর্কতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ঝিনাইগাতীর উপজেলা প্রশাসনের ওপরও এই ঘটনার পর্যালোচনা চালু হয়েছে; ভবিষ্যতে নির্বাচনী ইভেন্টের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী সময়কালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগে নির্দেশনা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সর্বশেষে, কমিশন গণমাধ্যমকে জানাবে যে, রিটার্নিং অফিসার ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর কী ধরনের শাস্তি বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



