শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গত বুধবার নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে বসার আসন নিয়ে তীব্র বিরোধে সংঘর্ষে স্থানীয় জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হন। একই দিনে রাজধানীর মিরপুর‑১০ নম্বর পানির ট্যাংকি এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান একটি মিডিয়া বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটিকে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ করে মন্তব্য করেন।
বিকাল ১১টার দিকে মিরপুর‑১০-এ জামায়াত-এ-ইসলামি তার ঢাকা‑১৫ আসনের প্রধান কার্যালয় ও ডিজিটাল প্রচারের জন্য মাল্টি মিডিয়া বাসের উদ্বোধনী আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন সহিংসতা অসহনীয় এবং জনগণের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। তিনি যোগ করেন, অন্যের জয় দেখেই নিজের সহ্য না করা এই ঘটনাকে সহনশীলতার অভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
ঝিনাইগাতীর সংঘর্ষে রেজাউল করিমের মৃত্যু স্থানীয় পর্যায়ে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেজাউল করিম জামায়াত-এ-ইসলামির স্থানীয় নেতা ছিলেন এবং নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের সময় বসার আসন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার ফলে হিংসা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পরেও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
শফিকুর রহমানের মিরপুর‑১০ অনুষ্ঠানে দেওয়া মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “এই ঘটনা ইঙ্গিত করে অসহিষ্ণুতা, জনগণের ওপর আস্থা নেই এবং অন্যের বিজয় দেখে নিজের সহ্য হয় না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের কনসার্নকে জানিয়ে দিয়েছি, প্রতিবাদ চালিয়ে যাব এবং আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য কোনো সুযোগ দেব না।”
অধিকন্তু, শফিকুর রহমানের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত একটি স্ট্যাটাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জনগণ এখন দেখতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা কীভাবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করে তুলবে। যারা এই হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত, তাদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার।” তিনি এই দাবিকে জোর দিয়ে বলেন, “কোনো ধরনের গড়িমসি জাতি বরদাশত করবে না।”
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামি দলও প্রতিবাদ রেলি চালু করার প্রস্তুতি জানায়। দলটি দাবি করে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে তারা আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবে। এই রকম দাবি নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
ঝিনাইগাতীর ঘটনা এবং শফিকুর রহমানের মন্তব্য উভয়ই দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এমন ঘটনা নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী কমিশনের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি আরোপের দাবি উত্থাপন করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে, তবে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ধরনের সহিংসতা রোধে তৎপরতা দেখাতে হবে, নতুবা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা সম্ভব।



